Science of Tears 7 May: চোখের জলেও আছে ভ্যারাইটি! আপনার কান্না কোন ক্যাটাগরির?

লাইফ স্টাইল - প্রকাশিত: ৭ মে ২০২৬, বিকাল ৫:১৪
IMG 20260507 WA0006

Science of Tears 7 May- পেঁয়াজ কাটার জ্বালা আর প্রেমিকার দেওয়া ছ্যাকা—দুটোতেই চোখ দিয়ে নোনা জল বের হয় ঠিকই, কিন্তু বিজ্ঞানের চোখে এই দুই কান্নার মধ্যে আসমান-জমিন ফারাক। আমরা অনেকেই ভাবি চোখের জল তো শুধুই জল, কিন্তু আদতে ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড থেকে বের হওয়া এই তরলের পেছনে লুকিয়ে আছে শরীরের জটিল সব কলকব্জা (Science of Tears 7 May)।

চোখের জলের তিন ইয়ারি ও তাদের কারসাজি

আমাদের চোখ আসলে কোনো সাধারণ জলের কল নয় বরং এটি একটি হাই-টেক প্রোটেকশন সিস্টেম। বিজ্ঞানীদের মতে চোখের জলকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় যার প্রথমটি হলো ‘বেসাল টিয়ার’। এটি হচ্ছে চোখের স্থায়ী সিকিউরিটি গার্ড যা সবসময় আপনার চোখকে ভেজা রাখে এবং জীবাণুকে লাথি মেরে বাইরে বের করে দেয়। আপনি যখন তাকিয়ে আছেন বা চোখের পলক ফেলছেন, তখন এই জলটিই কাজ করে যায় নিঃশব্দে। দ্বিতীয়টি হলো ‘রিফ্লেক্স টিয়ার’ যার জন্য মূলত পেঁয়াজ দায়ী। পেঁয়াজ কাটার সময় যখন সিন-প্রোপ্যানথিয়াল-এস-অক্সাইড নামক গ্যাস উড়ে এসে চোখে কামড় দেয়, তখন চোখ ভাবে বাইরে থেকে কোনো শত্রু আক্রমণ করেছে। অমনি সেই শত্রু তাড়াতে চোখ থেকে হুড়হুড় করে জল বের হতে শুরু করে যেন ধুয়েমুছে সাফ করে দেওয়া যায়। এটি পুরোপুরি শারীরিক লড়াই, মনের সাথে এর কোনো লেনদেন নেই।

সবশেষে আসে সেই বহুল পরিচিত ‘ইমোশনাল টিয়ার’ বা আবেগের কান্না। যখন ক্রাশ আপনাকে ব্লক মারে কিংবা প্রিয় সিনেমার বিয়োগান্তক দৃশ্যে মন হু হু করে ওঠে, তখন মস্তিষ্ক থেকে সিগন্যাল যায় চোখে। এই জলের বিশেষত্ব হলো এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং স্ট্রেস কমানোর হরমোন থাকে। তাই মন খারাপের পর মন খুলে কাঁদলে শরীর থেকে বিষাক্ত দুশ্চিন্তা বেরিয়ে যায় এবং মনটা অনেকটা হালকা লাগে।

বিজ্ঞানের হিসেবে কান্নার মধ্যেকার আসল পার্থক্য

আপনি যদি একটি মাইক্রোস্কোপের নিচে পেঁয়াজ কাটার জল আর বিরহ ব্যথার জল পরীক্ষা করেন, তবে দেখবেন তাদের রাসায়নিক গঠন একেবার আলাদা। পেঁয়াজ কাটার সময় যে রিফ্লেক্স জল বের হয় তাতে জলের ভাগ অনেক বেশি থাকে কারণ এর কাজ হলো চোখ ধোয়া। এটি মূলত একটি তাৎক্ষণিক রিফ্লেক্স অ্যাকশন যা আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘটে। অন্যদিকে আবেগের কান্নায় প্রোল্যাক্টিন, অ্যাড্রেনোকোর্টিকোট্রপিক এবং লিউসিন এনকেফালিন নামক উপাদান থাকে যা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ পেঁয়াজ কাটলে আপনার চোখ পরিষ্কার হয় আর মনের দুঃখে কাঁদলে আপনার মগজ পরিষ্কার হয়। রিফ্লেক্স টিয়ারে কেবল চোখ জ্বলে কিন্তু ইমোশনাল টিয়ারে পুরো শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য বদলে যায় যা আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে শান্তির ঘুম এনে দিতে পারে। পরের বার যখন পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখ দিয়ে জল পড়বে, তখন বুঝবেন আপনার চোখ জাস্ট একটু ‘সার্ভিসিং’ হচ্ছে। আর যদি আবেগের চোটে চোখ ভেজে, তবে বুঝবেন আপনার শরীর তার জমে থাকা মানসিক আবর্জনা পরিষ্কার করছে। দুই কান্নাই শরীরের জন্য দরকারি কিন্তু একটা আপনাকে দেবে ঝাল স্বাদ আর অন্যটা দেবে মনের শান্তি।

Scroll to Top