Mosque Loudspeaker WB 2026: মসজিদে মাইক খোলার নিদান নাকি একপেশে নীতি? শাহের দরবারে নালিশ ঠুকলেন বাংলার তিন সাংসদ
Mosque Loudspeaker WB 2026- রাজ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনের আড়ালে একের পর এক মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হলেন বাংলার তিন সংখ্যালঘু সাংসদ। নির্দিষ্ট কোনো ধর্মকে লক্ষ্যবস্তু না করে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইন সমানভাবে প্রয়োগের জোরালো দাবি তুলেছেন তাঁরা (Mosque Loudspeaker WB 2026)।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাংলার এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান। বৈঠক শেষে সাংসদ আবু তাহের দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা সর্বধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেই তা মান্য হবে। দুর্গাপুজা, কালীপুজা কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেও একই আইন সমানভাবে কার্যকর করা হোক, সেক্ষেত্রে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে টার্গেট করে মসজিদ থেকে মাইক নামানোর এই একতরফা পদক্ষেপ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, কষ্টদায়ক এবং বেদনাদায়ক। সাংসদদের এই দাবির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা ও আদালতের বিধানকে হাতিয়ার করে রাজ্যজুড়ে মসজিদ ও উপাসনালয় থেকে লাউডস্পিকার অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের এই নীতিহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশের বিরুদ্ধে জোরজুলুমের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে আইএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়ত উলামা। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি হাইকোর্টে মামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান, এটি কোনও ধর্মকে লক্ষ্য করে নেওয়া পদক্ষেপ নয়; শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করাই উদ্দেশ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিষয়টি এখন আর শুধু লাউডস্পিকার বা শব্দদূষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং আইন প্রয়োগের সমতা, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা— এই তিনটি প্রশ্নকে ঘিরেই নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন একটি ইস্যু রাজনৈতিক মেরুকরণের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নজর, কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন এই বিতর্কে কী অবস্থান নেয় এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদৌ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য একই নীতি কার্যকর হয় কি না।












