Dilip Ghosh Cow Controversy: প্রেশারের ওষুধ বাদ, এবার গরুর পিঠে হাত! দিলীপ ঘোষের নয়া ‘কাউ থেরাপিতে’ নেটপাড়ায় হাসির রোল!
Dilip Ghosh Cow Controversy- গরুর দুধে সোনা খোঁজা থেকে শুরু করে ‘দেশি গরু মা, আর জার্সি গরু মাসিমা’— গোমাতা নিয়ে দিলীপ ঘোষের আলটপকা মন্তব্য মানেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের বন্যা। তবে ট্রোলাররা যতই হাসাহাসি করুক, নিজের অবস্থানে বরাবরই অনড় রাজ্যের পঞ্চায়েত, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এবার তাঁর নয়া দাওয়াই— হাই ব্লাড প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও গরুর জুড়ি মেলা ভার। গরুকে একটু আদর করলেই নাকি নিমেষে ভ্যানিশ হয়ে যাবে রক্তচাপের সমস্যা (Dilip Ghosh Cow Controversy)।
সম্প্রতি উত্তর কলকাতার কাঁকুড়গাছিতে একটি চা-চক্রে যোগ দিয়ে গরুর এই ‘মেডিক্যাল’ উপকারিতা নিয়ে এক্কেবারে সায়েন্টিফিক স্টাইলে বক্তব্য রাখেন এই বিজেপি মন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, গরুকে আদর করলে ব্লাড প্রেশার কমে যেতে পারে। প্রেশারের চড়া ওষুধ বাদ দিয়ে দিলীপবাবুর দেওয়া অভিনব প্রেসক্রিপশন হলো— গরুর গলকম্বল কিংবা পিঠের কুঁজে আলতো করে হাত বোলালেই নাকি হাই ব্লাড প্রেশার দ্রুত নেমে আসে। মন্ত্রীর মুখে এমন নিখরচায় চিকিৎসার উপায় শুনে ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় হাসির রোল উঠলেও, দিলীপবাবু কিন্তু নিজের থিওরিতে এক্কেবারে অনড়।
অবশ্য গরুর পিঠ মালিশ করে রক্তচাপ কমানোর এই থিওরি দিলীপ ঘোষ একাই আবিষ্কার করেননি, এর একজন যোগ্য সহযাত্রীও রয়েছে। কয়েক বছর আগে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুরও ঠিক একই দাবি করে বলেছিলেন, গরুর পিঠ থেকে ঘাড়ের দিকে মালিশ করলে নাকি রক্তচাপের অসুখ সেরে যায়। সেই লাইনেই হেঁটে দিলীপবাবু এবার গোবরের মহিমাও কীর্তন করলেন। নিজের এক আত্মীয়ের বাস্তব উদাহরণ টেনে মন্ত্রীমশাই জানান, শরীরের ফোলা অংশে গরুর গোবর লেপে দেওয়ার পর নাকি সেই অসুখ ম্যাজিকের মতো কমে গিয়েছিল।
দিলীপ ঘোষ এবং গরুর এই আদিখ্যেতা অবশ্য বেশ পুরনো ও ঐতিহাসিক। ২০১৯ সালে বর্ধমানের এক জনসভা থেকে তিনি বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়ে দাবি করেছিলেন, দেশি গরুর কুঁজে নাকি এক বিশেষ ‘স্বর্ণনাড়ি’ থাকে। সেই নাড়ির সাহায্যে সূর্যের আলো থেকে সোনা তৈরি করে ফেলে গরু, আর তাই দেশি গরুর দুধে সোনার উপাদান ও হলুদ আভা থাকে। এরপর করোনা আবহে যখন বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিনের খোঁজ করছিলেন, তখন দিলীপবাবু ইমিউনিটি বাড়াতে গোমূত্র খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। সেই সময় এই নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হলে বিরোধীদের পাল্টা খোঁচা দিয়ে দিলীপবাবু বলেছিলেন, তিনি গরুর কথা বললেই অনেকের নাকি অস্বস্তি হয়, আসলে গাধারা কখনও গরুর মর্ম বুঝবে না।
আপাতত দুগ্ধ শিল্পের ব্যবসায়ী এবং গোশালার মালিকদের সঙ্গে একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসার তোড়জোড় করছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তবে সেই অফিশিয়াল বৈঠকের আগেই কাঁকুড়গাছির চা-চক্রে এসে গোমাতার এই মাল্টি-টাস্কিং গুণের কথা সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন তিনি। এখন দেখার, মন্ত্রীর এই ‘কাউ থেরাপি’র ঠেলায় প্রেশারের ওষুধের দোকানগুলো লাটে ওঠে কি না!












