Sundarban: ফের বাঘের আক্রমণে আহত সুন্দরবনের এক মৎস্যজীবি
ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের সংবাদদাতা: সুমিত দে
আবার বাঘের (sundarban tiger) আক্রমণে জখম এক সুন্দরবনের মৎস্যজীবি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন কলকাতার হাসপাতালে।পেটের টানে সুন্দরবনের জঙ্গলের নদী খাঁড়িতে গিয়েছিলেন মাছ কাঁকড়া ধরতে।সেখানেই বাঘের আক্রমণে গুরুতর জখম হলেন আবার এক মৎস্যজীবী।
বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ (calcutta medical College) হাসপাতালে পাঞ্জা লড়ছেন তিনিস্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুন্দরবন কোস্টাল থানার ছোট মোল্লাখালি পঞ্চায়েতের ৯ নম্বর কালিদাসপুরের বাসিন্দা পেশায় মৎস্যজীবী শ্যামাপদ শীল।
গত মঙ্গলবার প্রতিবেশী জগদীশ ঘরামী ও কমলেশ ঘরামীকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দরবন জঙ্গলের নদী খাঁড়িতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য রওনা দিয়েছিলেন। তিনজন মৎস্যজীবী দিব্যি মাছ কাঁকড়া ধরছিলেন।
রবিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ ওই মৎস্যজীবীর দল সুন্দরবনের (sundarban) বাগনা ফরেস্টের হরিখালি এলাকায় কাঁকড়া ধরছিলেন। সেই সময় সুন্দরবন জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে এসে পিছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
বাঘ আচমকা শ্যামাপদকে লক্ষ্য করে তাঁর ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ে আক্রমণ করে।শুরু হয়ধ্বস্তাধস্তি। নদীর জলে পড়ে যায় বাঘ ও শ্যামাপদ। বাঘ মুহূর্তে শ্যামাপদর কোমরে, বুকে আক্রমণ করতে থাকে। নদীর জলে দীর্ঘক্ষণ চলে বাঘে মানুষের মরণপণ লড়াই।
বাঘ তার শিকার ছাড়তে নারাজ। বারবার হুঙ্কার করে গর্জন করতে থাকে।আর চোখের সামনে এমন বিভৎস ঘটনা দেখে প্রথমে হতভম্ব হয়ে যান দুই সঙ্গী। মুহূর্তে তাঁরাও সঙ্গীকে উদ্ধার করার জন্য গাছের ডাল আর নৌকোর বৈঠা নিয়ে বাঘের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে বাঘ রণে ভঙ্গ দেয়। জগদীশ ও কমলেশরা শ্যামাপদ কে রক্তাক্ত অবস্থায় নদীবক্ষ থেকে উদ্ধার করে নৌকোয় তোলেন। ততক্ষণে শুরু হয়েছে রক্তক্ষরণ। তড়িঘড়ি নৌকোর বৈঠা বেয়ে রাত প্রায় ১১ টা নাগাদ গ্রামের ঘাটে পৌঁছান তাঁরা।
সেখান থেকে শ্যামাপদকে ছোট মোল্লাখালি প্রাথমিক হাসপাতালে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। সেখানে ওই মৎস্যজীবীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার ভোররাতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় মৎস্যজীবীকে।মঙ্গলবার সেখানেই ভর্তি আছে সে।
মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।দীর্ঘ দিন সুন্দরবনের বাঘ আক্রান্ত পরিবারদের পাশে থেকে কাজ করছে এপিডিআর নামে একটা গন সংগঠন।আর সেই সংগঠনের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সহ সম্পাদক মিঠুন মণ্ডল মঙ্গলবার বলেন, সুন্দরবনে বাঘে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, অথচ সরকার তাদের পাশে নেই।
আর তাই বাঘে আক্রান্ত মৎস্যজীবী শ্যামাপদ শীলের চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্বভার সরকারকে নিতে হবে। এছাড়াও আক্রান্ত মৎস্যজীবীর পরিবারের বর্তমানে সমস্ত খরচ ও ছেলের পড়াশোনার দায়িত্ব সরকারের নিতে হবে। অন্যথায় আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।












