SIR Supplementary List: এক একটা বুথ থেকে ‘ধুয়ে মুছে’ বাদ বিবেচনাধীন সবার নামই
SIR in West Bengal: তালিকা প্রকাশ্যে, কত নাম বাদ গেল SIR সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায়? --- পর্ব ১
সোমবার রাতে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (SIR Supplementary List)। রাজ্যের ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল। তার মধ্যে ৩০ লক্ষের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা সোমবার প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা দেখে চক্ষু চড়কগাছ রাজ্য বাসীর। নির্বাচন কমিশনের জোচ্চুরি করছে বলে মত একাংশের (SIR Supplementary List)।
সুজাপুরে ‘ডিলিটেড’ বহু ভোটার
মালদার সুজাপুরের পশ্চিম বাহাদুরপুর প্রাইমারি স্কুলের ৩ নম্বর বুথ। স্থানীয়দের দাবি, এখানে ৫২২জন ‘বিবেচনাধীন’ ছিলেন।
সোমবার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে ৪২৭ জনের নামই ‘ডিলিটেড’ তালিকায়। অর্থাৎ ৫২২ জনের মধ্যে ৯৫ জন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একেবারে লট আকারে বাদ পড়েছে উক্ত বুথে।
এই প্রসঙ্গে সুজাপুরের বাসিন্দা মির আলি মহলদার সংবাদ মাধ্যমে জানান, আতঙ্কে দিন কাটছে। বাপ-দাদার জন্মস্থান সেখানে। বহুবছরের বাসিন্দা তাঁরা। এখন চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
আরেক বাসিন্দা প্রশ্ন তুলছেন, ‘আমাদের ভোট নিয়ে সংসদে মোদিজি বসে আছেন। আমাদের ভোট নিয়ে সংবিধান চলছে। আজকে আমরাই বাতিল?’
বসিরহাটেও একই ছবি
একই চিত্র ধরা পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের ২ নম্বর ব্লক। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বড় গোবরা গ্রামের পাঁচ নম্বর বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা ৯৯২ জন।তাঁদের মধ্য়ে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩৪০জন। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা গেল, বাদ গেছে তাঁদের সবার নাম!
বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা, কাজিরুল মণ্ডল জানিয়েছেন, ৩৪০জনকে হিয়ারিং নোটিস পাঠানোর পর তাঁদের প্রথম বিবেচনাধীন করা হয়।যখন প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হয়, সেক্ষেত্রে দেখা হচ্ছে ৩৪০ জনকেই ডিলিট করা হচ্ছে।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। একই চিত্র ধরা পড়েছে রাজ্যের একাধিক জেলায়। যেমন কাটোয়া বিধানসভা বুথ নম্বর ৮৩। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হতে দেখা গেছে তালিকাভুক্ত ভোটার যুক্ত হয়েছেন- ১৯ (পুরুষ- ১২; মহিলা-৭; অমুসলিম- ১; মুসলিম-১৮) অন্যদিকে তালিকা থেকে ভোটার বাদ পড়েছেন- ৫২ (পুরুষ-২৬; মহিলা-২৬; অমুসলিম-১৩; মুসলিম-৩৯)। যাদের মধ্যে মাত্র তিনজন ২১-৩০ বছর বয়সী। এঁরা ছাড়া বাকি সবাই ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে। বয়সের পরিসংখ্যানটা প্রায় প্রতিটা বুথেই কমবেশি এক। শুধু তাই নয়, বাদ পড়া অধিকাংশের ২০০২ ভোট দিয়েছেন। এছাড়াও রাজ্যের বহু বুথে এমন মানুষ রয়েছেন যারা সাপ্লিমেন্টারি লিস্টেও নেই, ডিলিটেড লিস্টেও নেই। ফাইনাল ভোটার লিস্টেও নেই। বলা বাহুল্য, সোমবার প্রথম দফায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় প্রায় ১০ লক্ষ নাম প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও রাজ্যজুড়ে ৮০ হাজারের বেশি বুথ থাকলেও প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৪০ হাজার বুথের তালিকাই প্রকাশিত হয়েছে। এই তালিকায় প্রায় ৪০ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে বলেও সূত্রের খবর।












