2 MPs meet CM Suvendu: SIR ও মসজিদের মাইক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে আবু – খলিলুর

ভারত - প্রকাশিত: ৮ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪০

মোদির সঙ্গে ব্রেকফাস্ট, পরদিনই নবান্নে আবু-খলিলুর! ‘NDA-র নামে বৈঠক হলে যাব না’, বিস্ফোরক বার্তা

abu taher khalilur rahaman meet cm suvendu adhikari

2 MPs meet CM Suvendu- দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দেওয়ার ঠিক পরদিনই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহের খান ও খলিলুর রহমান। শুক্রবার মোদির সঙ্গে বৈঠক, শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর দরবার—পরপর দুই দিনের এই দুই সাক্ষাৎ ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে ফের জোরদার হয়েছে জল্পনা (2 MPs meet CM Suvendu)।

শনিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে সরব হন দুই সাংসদ। তাঁদের দাবি, যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় প্রায় ২৯ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রকৃত ও বৈধ ভোটাররা যাতে কোনওভাবেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তাঁরা। বৈঠকে মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিষয়টিও তোলেন আবু তাহের ও খলিলুর রহমান। মসজিদ থেকে মাইক্রোফোন সরানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেন কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করা না হয়। তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন—মুসলিমদের টার্গেট করে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না।

বৈঠকের পর আবু তাহের বলেন, “আমরা আইন মেনে চলব।” তাঁর দাবি, এই বিষয়গুলি নিয়ে দু’দিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও আলোচনা করেছেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্য, “ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, এমন কোনও পদক্ষেপ যেন না করা হয়, যাতে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে।” তবে এর মধ্যেই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে এনডিএ নিয়ে দুই সাংসদের অবস্থান। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদির ডাকা ব্রেকফাস্ট বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও শনিবার আবু তাহের স্পষ্ট করে দেন, এনডিএ-র নামে কোনও বৈঠক হলে তাঁরা সেখানে যাবেন না। এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হলে অবশ্য বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

আবু তাহেরের বক্তব্য, “কাগজে-কলমে এনসিপিআই কারও শরিক নয়।” এখনও তাঁদের সাংসদ পরিচয়ের সঙ্গে এআইটিসি-র উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়াকে তাঁরা এনডিএ-তে যোগদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মানতে নারাজ। উল্লেখ্য, শুক্রবার মোদির সঙ্গে ব্রেকফাস্ট বৈঠকে সাংসদদের সংসদীয় বিতর্কে আরও সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের উপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এনডিএ-কে একটি পরিবার হিসেবে উল্লেখ করে সাংসদদের আশ্বস্ত করেছেন বলেও সূত্রের খবর।

কিন্তু তার পরদিনই নবান্নে আবু-খলিলুরের উপস্থিতি এবং এনডিএ নিয়ে তাঁদের স্পষ্ট অবস্থান নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণের প্রশ্ন তুলেছে। দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে বৈঠক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা এবং পরদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ—এই ধারাবাহিকতায় দুই সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান এখন আরও নজরকাড়া হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন একটাই—দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ, নাকি বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ? আবু-খলিলুরের পরপর দুই দিনের পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Scroll to Top