Ex Cm Mamata Banerjee 24May: সংবাদমাধ্যম বয়কটের পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফেসবুকই এখন তৃণমূলের প্রধান রণক্ষেত্র
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল নেত্রীর নতুন রাজনৈতিক কৌশলের নেপথ্যে কী?
Ex Cm Mamata Banerjee 24May- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দীর্ঘ ২০ দিন পর এক অভাবনীয় সিদ্ধান্তে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, প্রচলিত সংবাদমাধ্যম (Mainstream media) এড়িয়ে এখন থেকে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তিনি সরাসরি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমেই জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। গত শনিবার বিকেলে এক দীর্ঘ ফেসবুক লাইভে এসে তিনি তার এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে (Ex Cm Mamata Banerjee 24May)।
ইভিএম এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
দীর্ঘ লাইভ সেশনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকার (Central government), বিজেপি (BJP) এবং নির্বাচন কমিশনের (Election commission) বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন যে, নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ের সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় (IT infrastructure) কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি পেশ করেননি, তবুও ইভিএম (EVM) নিয়ে তার এই সরব অবস্থান নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার মতে, বর্তমান ফলাফল স্বাভাবিক নয় এবং এই নির্বাচন নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন (Political repression) চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি অনুযায়ী, দলের প্রায় দুই হাজারের বেশি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অসংখ্য হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের জীবিকা বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর এবং যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের একটি ঐতিহাসিক ভাস্কর্য ধ্বংস করার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘অস্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করে কঠোর রাজনৈতিক প্রতিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ
ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অধিকারের বিষয়টিকেও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। বিশেষ করে আজান (Azan) বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও কারও ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করা কাম্য নয়। সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নিয়ম ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ কাজ করছে, তা দূর করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি।
ফেসবুককে হাতিয়ার করে নতুন রাজনৈতিক লড়াই
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রণকৌশল (Political strategy) গ্রহণ করেছে। প্রচলিত গণমাধ্যমকে এড়িয়ে সরাসরি ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছানোর এই সিদ্ধান্ত তরুণ প্রজন্মের ভোটার ও শহুরে মধ্যবিত্তদের (Urban middle class) প্রভাবিত করার এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ হতে পারে। মাঠ পর্যায়ের আন্দোলনের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে (Digital platform) প্রধান হাতিয়ার করে তৃণমূল নেত্রী আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।












