Eid ul Adha Dhaka 28May: ‘মজলুমের রক্ষা আর জালিমের বিচার’ চেয়ে চোখের জলে বিশেষ মোনাজাত ঢাকায়

ইসলাম - প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬, সকাল ১০:০৬

ওপার বাংলায় ঈদের প্রধান জামাতে এক সারিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, বিশ্ব মুসলিমের নিরাপত্তা কামনায় আবেগঘন পরিবেশ

Dhaka Eid

Eid ul Adha Dhaka 28May- ঈদের আনন্দের আবহেই ওপার বাংলার বুক থেকে ধ্বনিত হলো এক তীব্র আর্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন ঢাকার ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। রাজধানী ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার (Eid al-Adha) প্রধান জামাত শুধু উৎসবের আঙিনা হয়ে রইল না, তা হয়ে উঠল বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের এক নীরব প্রতিবাদ মঞ্চ। লাখো মানুষের কণ্ঠ থেকে একযোগে ভেসে এল একটাই ফরিয়াদ— ‘হে আল্লাহ, জালিমের হাত থেকে মজলুমকে রক্ষা করো’। অশ্রুসিক্ত চোখে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর (Muslim Ummah) শান্তি, নিরাপত্তা এবং সার্বিক কল্যাণের জন্য এই বিশেষ প্রার্থনা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে (Eid ul Adha Dhaka 28May)।

​আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে এই প্রধান ঈদের জামাত (Eid Congregation) অনুষ্ঠিত হয়। কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে এই জামাতটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Prime Minister Tarique Rahman) একই সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই ঈদের নামাজ আদায় করেন। ওপার বাংলার এই দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে এক নতুন বার্তা সঞ্চার করেছে। শুধু তাই নয়, এই জামাতে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ (Diplomats) সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।

​এবারের ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতির দায়িত্বে ছিলেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হয় খুতবা ও সেই বহুপ্রতীক্ষিত বিশেষ মোনাজাত (Special Prayer)। মোনাজাতের প্রতিটি শব্দে মিশে ছিল এক তীব্র আবেগ ও আর্তি, যা উপস্থিত হাজারো মুসল্লির চোখকে অশ্রুসিক্ত করে তোলে। মোনাজাতে দেশবাসী তথা সমগ্র বিশ্ব মুসলিমের জন্য রহমত ও বরকত কামনা করে বলা হয়, ‘ইয়া আল্লাহ, সব মজলুম ভাইদেরকে জুলুম থেকে হেফাজত করুন। জালিমরা যেন কারও ওপর জুলুম করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করে দিন।’ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে সমস্ত মুসলমানরা আজ নির্যাতিত, তাদের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে ধর্ম ও ইবাদত পালনের অধিকার রক্ষা এবং মুসলিম বিশ্বের সুদৃঢ় ঐক্যের জন্য আল্লাহর দরবারে কাতর প্রার্থনা জানানো হয়।

​এই আধ্যাত্মিক প্রার্থনায় শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিই নয়, উঠে এসেছে সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাও। মোনাজাতে দেশের মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, ‘পবিত্র কোরবানির শিক্ষা যেন আমরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে পারি।’ সমাজের অসহায়, দরিদ্র এবং যারা এবার কোরবানি দিতে অসমর্থ হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিত্তশালীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে দেশ পরিচালনায় ‘হিম্মত, নেক নিয়ত ও সৎ সাহস’ দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়, যা বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এক ইঙ্গিত।

​ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নিখুঁত ব্যবস্থাপনায় (Event Management) এবার জাতীয় ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন ও বিশেষ প্রস্তুতি। সাধারণ মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ ও কঠোর নিরাপত্তা (Strict Security) নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঈদগাহ ময়দানে নারী মুসল্লিদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল সম্পূর্ণ আলাদা প্রবেশপথ এবং ওজু ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওজুখানা এবং আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিমের (Medical Team) সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নারীসহ মোট ৩৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন, যা সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Scroll to Top