WB Exit Poll Analysis 2026: নবান্নে কি এবার পদ্ম-বিপ্লব নাকি দিদিরই দাপট? বুথফেরত সমীক্ষার কাঁপুনিতে থমথমে বাংলা!

WB Exit Poll Analysis 2026- পশ্চিমবঙ্গের তখত কার? মোদি না মমতা? এক্সিট পোলের গরম মশলায় এখন তুঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক পারদ। ভোটের ময়দান থেকে যা খবর আসছে, তাতে একদল বলছে ঘাসফুল ফুটবে, তো অন্যদলের দাবি এবার গেরুয়া ঝড়ে উড়বে নবান্ন। বুথফেরত সমীক্ষা এই গোলকধাঁধায় জনমত পোলস আর পিপলস পালস দিদির জয়ের গ্যারান্টি দিলেও, চাণক্য থেকে পি-মার্কের মতো বড় খেলুড়েরা কিন্তু তিলক পরাচ্ছে পদ্ম শিবিরকেই। ম্যাট্রিজ আর প্রজা পোলের হিসেব যদি মিলে যায়, তবে বঙ্গ রাজনীতিতে প্রথমবার লাল কার্পেট বিছাতে পারে বিজেপি (WB Exit Poll Analysis 2026)।
লড়াইটা যে একদম হাড্ডাহাড্ডি, সেটা এনডিটিভির ‘পোল অফ পোলস’ দেখলেই স্পষ্ট। সেখানে কাউকেই দরাজ হাতে নম্বর দেওয়া হয়নি, বরং ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে ত্রিশঙ্কু বিধানসভার। অর্থাৎ, ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে কালঘাম ছুটবে দুই শিবিরেরই। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর আত্মবিশ্বাসী হুঙ্কার, অন্যদিকে মমতার ‘ভি’ চিহ্ন—সব মিলিয়ে ৪ মে-র আগে বাংলা যেন এক থ্রিলার সিনেমার ক্লাইম্যাক্স। বাম-আই এসএফএফের ঝুলিতেও দু-পাঁচটা আসনের ছিটেফোঁটা পড়ার সম্ভাবনা দেখছে সমীক্ষকরা।
আসন সংখ্যার এই গোলকধাঁধায় চোখ রাখলে মাথা ঘুরে যেতে বাধ্য। জনমত পোলস তৃণমূলকে একতরফা ১৯৫-২০৫টি আসন দিয়ে জয়ের মুকুট পরালেও, ঠিক উল্টো মেরুতে দাঁড়িয়ে প্রজা পোল স্ট্র্যাটেজিস বিজেপিকে ১৭৮-২০৮টি আসনের পাহাড়প্রমাণ গরিষ্ঠতা দিচ্ছে। চাণক্য এবং ম্যাট্রিজের মতো সংস্থাগুলো গেরুয়া শিবিরকে ১৪৬ থেকে ১৬১-র ঘরে আটকে রাখলেও মমতার দলের জন্য বরাদ্দ করেছে মাত্র ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। পোল ডায়েরি তো বিজেপিকে ১৭৯ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছে, যেখানে তৃণমূলের ঝুলি ১০০-র গণ্ডি পেরোতে হিমশিম খাচ্ছে। সব সমীক্ষার গড় বা এনডিটিভির ‘পোল অফ পোলস’ আবার চূড়ান্ত নাটকীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে তৃণমূলকে ১৪৬ এবং বিজেপিকে ১৪০-এ দাঁড় করিয়ে রেখেছে, যা কার্যত বাংলার বিধানসভাকে এক ত্রিশঙ্কু ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ২০২১-এর সেই ২১৩ আসনের দাপট কি এবার ম্লান হবে, নাকি ৭৭ আসন থেকে লাফিয়ে বিজেপি ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেলবে, সেই উত্তর এখন কেবল সময়ের হাতে।
বাংলার বাইরে ছবিটা অবশ্য কিছুটা পরিষ্কার। অসমে বিজেপি আবার ক্ষমতা দখল করছে, সেটা নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই। কেরালায় আবার পালাবদলের সুর—এলডিএফকে সরিয়ে গদি ওল্টাতে পারে কংগ্রেসের ইউডিএফ। তবে সবচেয়ে বড় ধামাকা তামিলনাড়ুতে। সেখানে প্রথাগত ডিএমকে বা এআইএডিএমকে-র হিসেব ওলটপালট করে দিয়ে লাইমলাইটে চলে এসেছেন অভিনেতা বিজয়। তাঁর টিভিকে পার্টি যদি সত্যিই ম্যাজিক দেখায়, তবে দক্ষিণী রাজনীতিতে শুরু হবে এক নতুন জমানা।
মোদ্দা কথা হলো, বাংলার ভাগ্য এখন ইভিএম-এর অন্ধকার কুঠুরিতে বন্দি। বিজেপি কি সত্যিই প্রথমবারের মতো বাংলার অধীশ্বর হবে, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চেনা পিচেই ছক্কা হাঁকিয়ে চতুর্থবার শপথ নেবেন, তার জবাব মিলবে শুধু গণনার দিন। আপাতত বাংলার আকাশ-বাতাস জুড়ে কেবল একটাই প্রশ্ন—রাজার মুকুট কার মাথায়?











