সাড়ে পাঁচ কোটি আবার আনম্যাপড! চারদিনে কীভাবে শুনানি শেষ হবে—সিইও-কে কড়া প্রশ্ন Trinamool Congress – এর
সুমিত দে, কলকাতা: মাঠ থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ আদালত—রাজ্যের একজন বাসিন্দারও ন্যায্য ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেবে না বাংলার শাসক দল Trinamool Congress। দলনেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলার ক্ষেত্রে কোনওভাবেই এমন কোনও প্রক্রিয়া চলতে দেওয়া হবে না, যাতে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হন।
যেভাবে বিহার নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই—এমন দাবি করতে পেরেছিল নির্বাচন কমিশন, বাংলার ক্ষেত্রে সেই পথ যে বন্ধ, তা বারবার জানিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল। বুধবার একদিকে যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে রাজ্যের মানুষের পক্ষে সওয়াল করছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী, ঠিক সেই দিনই নতুন অভিযোগ নিয়ে কলকাতায় রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে হাজির হল তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
নতুন করে হয়রানির মুখে পড়েছেন রাজ্যের আরও প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ। প্রতিনিধিদলের তরফে জানানো হয়, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে যাঁরা ম্যাপড ভোটার হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন, আচমকাই তাঁদের আনম্যাপড করে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে এই অভিযোগ জানান সাংসদ পার্থ ভৌমিক, মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পুলক রায় ও স্নেহাশিস চক্রবর্তী।
সাক্ষাৎকারের পরে মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার যাঁদের তথ্য যাচাই হয়ে গিয়েছিল, তাঁদের ফের যাচাই করা হচ্ছে। কারা এই কাজ করছে—সেই তথাকথিত মাইক্রো পর্যবেক্ষক। প্রশ্ন উঠছে, এই পর্যবেক্ষকেরা আসছেন কোথা থেকে, কী উদ্দেশ্যেই বা তাঁদের নিয়োগ? অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকেই এঁদের আনা হয়েছে। এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সর্বোচ্চ আদালতে তুলেছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—এই পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যদিও আধিকারিক জানান, বিষয়টি বিচারাধীন।
এর পাশাপাশি তৃণমূল প্রতিনিধিদল তুলে ধরে এক চরম হয়রানির চিত্র। তাঁদের বক্তব্য, এই সমস্যার জন্য কোনও ভোটার দায়ী নন। যাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে, তাঁরা হাজির হয়েছেন। ছবি তোলা হয়েছে, লিখিত জমাও দেওয়া হয়েছে। তবু পরে জানানো হচ্ছে, শুনানি হয়নি—শুনানির তারিখ নাকি ল্যাপস করেছে। প্রশ্ন উঠছে, কার দোষে এই অব্যবস্থা? তৃণমূলের দাবি, গোটা বিষয়টাই কমিশনের গাফিলতি ও অপ্রস্তুতির ফল। বিশেষ নিবিড় সংশোধনী চালানোর মতো প্রস্তুতি তাঁদের ছিল না। এর জেরে প্রায় পঞ্চান্ন লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই হয়রানির শিকার।
তৃণমূলের তরফে আরও জানানো হয়, আগামী ১৪ তারিখ পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। হাতে সময় মাত্র চারদিন। এখনও পর্যন্ত শুনানি হয়েছে মাত্র তেষট্টি লক্ষের। বাকি প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের শুনানি কীভাবে এই সময়ের মধ্যে শেষ হবে—এই প্রশ্ন তুলে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে স্মারকলিপি জমা দেয় তৃণমূল প্রতিনিধিদল।











