WB cattle slaughter ban 2026: শুভেন্দু সরকারের পশুজবাই নিষেধাজ্ঞা, ইদের মুখে বিপন্ন গ্রামীণ অর্থনীতি, দিশেহারা হিন্দু ব্যবসায়ীদের কান্না ও আত্মহত্যার হাহাকার! আইনি লড়াইয়ে হাই কোর্টে তৃণমূল

আইন - আদালত - প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩০
BHANGAR SADHAN GHOSH 05

WB cattle slaughter ban 2026- আসন্ন পবিত্র কোরবানি ইদের আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিষ্ফোরণ! পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের পর শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকার গবাদি পশু জবাইয়ের ওপর যে কড়া আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তার জেরে আজ এক অভূতপূর্ব ও হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই নতুন আইনকে সম্পূর্ণ মান্যতা দিয়ে এ রাজ্যের মুসলিম সমাজ এবার গরুর কোরবানি থেকে পুরোপুরি বিরত থেকেছে। কিন্তু সরকারের এই হঠাৎ ফতোয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন রাজ্যের হাজার হাজার গরিব হিন্দু ব্যবসায়ী। যে গবাদি পশুদের তাঁরা নিজেদের সন্তানের মতো পরম স্নেহে, চড়া সুদে ঋণ নিয়ে লালন-পালন করেছিলেন ইদের হাটে বিক্রি করবেন বলে, সরকারের এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞায় রাতারাতি তা মূল্যহীন হয়ে পড়েছে। চারদিকে আজ শুধুই হাহাকার আর কান্না (WB cattle slaughter ban 2026) দেনার দায়ে দিশেহারা বহু হিন্দু ব্যবসায়ী আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিচ্ছেন, কেউ বা বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রশাসনের কাছে সরাসরি স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানাচ্ছেন! পথে নেমে চলছে বুক চাপড়ে প্রতিবাদ। একদিকে কড়া প্রশাসনিক ফতোয়া, অন্যদিকে হাজার হাজার গরিব হিন্দু পরিবারের অন্নসংস্থানের এই মর্মান্তিক হাহাকার— ইদের মুখে তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন মানবিক সংকট এবার গড়াল আদালতের দোরগোড়ায়। রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামানের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলাকে কেন্দ্র করে বুধবার তাই সরগরম হয়ে উঠল কলকাতা হাই কোর্ট।

​১৯৫০-এর আইনের জুজু! পশুজবাই নিয়ে নজিরবিহীন সরকারি ফতোয়া

​পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরেই ১৯৫০ সালের প্রাচীন প্রাণিসম্পদ আইনকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে নতুন বিজেপি সরকার। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রশাসনের আগাম লিখিত অনুমতি ছাড়া রাজ্যে একটিও গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, যে পশুর বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হয়নি, তাকে কোনোভাবেই জবাই করা চলবে না। মাংস কাটার ক্ষেত্রেও স্থানীয় পৌরসভা, পঞ্চায়েত বা রাজ্য প্রাণিসম্পদ দফতরের লিখিত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের এই আকস্মিক ও কঠোরতম সিদ্ধান্তের ফলেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে কোরবানি ইদের প্রস্তুতিতে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে দরবার করেছিলেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।

​গরুকে বাদ রেখে মোষ-বলদ কোরবানির অনুমতি চান মহুয়া

​আদালতে এই আইনি লড়াইয়ে তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামানের ছায়াসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনগরের হেভিওয়েট তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আইনের ফাঁক গলে সমাধানের পথ খুঁজতে তাঁরা হাতিয়ার করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনেরই ১২ নম্বর ধারাকে। মহুয়া মৈত্র জোরালো সওয়াল করে বলেন, বকরি ইদ মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, তাই আইনের ১২ নম্বর ধারার বিশেষ সংস্থান ব্যবহার করে রাজ্য সরকারের উচিত ইদের দিনগুলিতে কিছুটা নমনীয় হওয়া। তাঁদের স্পষ্ট আর্জি— ধর্মীয় সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে গরুকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়েই অন্তত মোষ কিংবা বলদ কোরবানির ক্ষেত্রে যেন এ বারের মতো বিশেষ প্রশাসনিক ছাড় দেওয়া হয়।

​’ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু ব্যবসায়ীরাও’, নিষেধাজ্ঞায় বড় আর্থিক ধাক্কার আশঙ্কা

​এই আইনি সংঘাতে শুধুমাত্র ধর্মীয় আবেগই নয়, বরং রাজ্যের এক বিশাল অংশের মানুষের রুটি-রুজির প্রশ্নটিকেও সামনে এনেছেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, সরকারের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের গরিব মানুষের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে। শুধু মুসলিমরাই নন, বহু হিন্দু ব্যবসায়ী যাঁরা সারা বছর ধরে কোরবানির হাটে ভালো দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অত্যন্ত যত্নে গবাদি পশু লালন-পালন করে আসছিলেন, তাঁরাও আচমকা এই নিষেধাজ্ঞার জেরে দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়েছেন। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত কেবল ধর্মীয় নয়, একটি বড়সড় অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

​আল্লাহর উদ্দেশে উৎসর্গ, ব্যাহত দীর্ঘদিনের ধর্মীয় প্রস্তুতি

​মামলার মূল আবেদনকারী তথা তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান কোরবানির আসল আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় মাহাত্ম্য আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোরবানি ইসলাম ধর্মের একটি পরম পবিত্র ও সংবেদনশীল রীতি। নিয়ম অনুযায়ী, নিজের প্রিয় পোষ্যকে সুস্থ-সবলভাবে বড় করে তোলার পর, তার প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হলে তবেই তাকে আল্লাহর উদ্দেশে উৎসর্গ করতে হয়। বহু মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে এই পবিত্র উৎসবের জন্য পশু প্রতিপালন করছিলেন। কিন্তু ১৩ মে-র এই সরকারি নির্দেশিকা তাঁদের সেই ধর্মীয় আবেগ এবং দীর্ঘদিনের প্রস্তুতিকে এক লহমায় চরম সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।

​বৃহস্পতিবারই মেগা শুনানি, নজর কলকাতা হাই কোর্টে

​পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং বিষয়টির সংবেদনশীলতা অনুধাবন করে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে। আদালত জানিয়েছে, একই ইস্যুতে রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টির জরুরি গুরুত্ব বিবেচনা করে আগামী ২১ মে, বৃহস্পতিবার সবকটি মামলার একসঙ্গে যৌথ শুনানি হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। ইদের ঠিক মুখে হাই কোর্টের রায় কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Scroll to Top