Prasanta Barman Bail 2026: পুলিশের চরম গাফিলতি! সুপ্রিম নির্দেশ উড়িয়েই হাজার টাকার বন্ডে মুক্ত ‘খুনে অভিযুক্ত’ প্রাক্তন বিডিও
পথ দুর্ঘটনায় গ্রেফতার হলেও বারাসত আদালতে পৌঁছল না সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী খুনের কোনও নথি, তদন্তকারী আধিকারিকের অনুপস্থিতিতে জামিন পেলেন প্রশান্ত বর্মণ
Prasanta Barman Bail 2026- সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার চাঞ্চল্যকর খুন (Murder Case) সংক্রান্ত মামলার কোনও নথি নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে পৌঁছোল না। এমনকি বারাসত আদালতে দেখা মিলল না তদন্তকারী আধিকারিকেরও (Investigating Officer)। ফলস্বরূপ, পুলিশের জালে ধরা পড়েও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অত্যন্ত সহজেই জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। মাত্র ১০০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে তিনি এই জামিন (Bail) পেয়েছেন, যা পুলিশের সার্বিক সমন্বয় নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে (Prasanta Barman Bail 2026)।
প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস (BNS)-এর ২৮১, ১২৫বি এবং মোটর ভেহিকল আইনের (Motor Vehicle Act) ১৮৪, ১৮৫ ধারায় এফআইআর রুজু করেছিল পুলিশ। মূলত বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর (Reckless Driving) অকাট্য অভিযোগেই এই মামলা দায়ের হয়েছিল। মঙ্গলবার তাঁকে যখন বারাসত আদালতে (Barasat Court) হাজির করানো হয়, তখন বিচারক মূল মামলার নথি (Court Documents) দেখতে চান। আশ্চর্যের বিষয় হল, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট অপেক্ষা করলেও পুলিশের তরফ থেকে কোনও নথি এসে পৌঁছোয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই জামিন মঞ্জুর করতে হয় আদালতকে।
এই চরম গাফিলতির বিষয়ে সরকারি আইনজীবী লাবণ্য জানাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি একেবারে নীরব থাকেন। অন্যদিকে প্রশান্তের আইনজীবী শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান যে মামলায় তাঁর মক্কেলকে গ্রেফতার করে আদালতে আনা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ জামিনযোগ্য অপরাধ। বিধাননগর কোর্ট বা অন্য কোনও স্থান থেকে মূল হত্যা মামলার কোনও নথিই পেশ করা হয়নি। সরকার পক্ষের অন্য মামলার দাবির জেরে এসিজেএম দীর্ঘক্ষণ অর্ডার রিজার্ভ রাখলেও, পুলিশের পক্ষ থেকে হেফাজতে নেওয়ার বা গ্রেফতারির কোনও আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা না পড়ায় শেষমেশ জামিন মঞ্জুর করা হয়। প্রখ্যাত আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা এই ঘটনাকে অত্যন্ত অদ্ভুত বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিধাননগরে খুনের অভিযোগ এবং নিউটাউনে দুর্ঘটনার পরেও পুলিশের দুই শাখার মধ্যে সমন্বয়ের (Police Coordination) এই অভাব রীতিমতো বিস্ময়কর।
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় প্রশান্তের গাড়ি বেপরোয়া গতিতে এসে প্রথমে এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। ছিটকে গিয়ে তিনি একটি স্কুটারে পড়েন এবং আহত হন। এরপর স্কুটার আরোহীই প্রশান্তের গাড়ি আটকে পুলিশে খবর দেন। অথচ এই ব্যক্তিই গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে উদ্ধার হওয়া সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ীর (Gold Businessman) দেহ উদ্ধারের ঘটনায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত। তাঁকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগে পুলিশ প্রশান্তকে খুঁজছিল। বারাসত ও বিধাননগর আদালত থেকে পাওয়া আগাম জামিন (Anticipatory Bail) কলকাতা হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়ে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও (Supreme Court) একই নির্দেশ দেয়। এত কিছুর পরেও পুলিশের নাগালের বাইরে থাকা এই হাই-প্রোফাইল অভিযুক্ত শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হলেও, স্রেফ নথির অভাবে জামিন পেয়ে যাওয়ায় স্তম্ভিত ওয়াকিবহাল মহল












