Detect Delete Deport 2026: অনুপ্রবেশকারী দমনে অ্যাকশন, প্রাথমিক তালিকাতেই নাম দু’হাজারের, কাঁপছে বাংলা!
ডিটেক্ট–ডিলিট–ডিপোর্ট অ্যাকশন প্ল্যান: নবান্নের কড়া খাঁড়া অবৈধ বাংলাদেশিদের ঘাড়ে, ফেসবুক থেকে ঝুপড়ি সর্বত্রই তোলপাড়!
Detect Delete Deport 2026- রাজ্যজুড়ে এখন একটাই মন্ত্র— ‘ডিটেক্ট–ডিলিট–ডিপোর্ট’ (Detect-Delete-Deport)। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে লুকিয়ে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে রাজ্য সরকার। জেলায় জেলায় বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা (Rohingya) অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গড়ে উঠছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (Holding Center)। রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, মঙ্গলবার পর্যন্ত গোটা রাজ্যে সব মিলিয়ে প্রায় দু’হাজার জন অবৈধ বাংলাদেশিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, অনুপ্রবেশকারী দমনের এই ধারাবাহিক অভিযান (Anti-infiltration drive) চলতেই থাকবে বলে জানা গেছে (Detect Delete Deport 2026)।
চিহ্নিত এই অনুপ্রবেশকারীদের আপাতত আটক করে নিয়ে আসা হচ্ছে ‘হোল্ডিং সেন্টারে’। সেখান থেকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফের (BSF) মাধ্যমে তাঁদের নিজেদের দেশে ডিপোর্ট (Deportation) বা পুশ ব্যাক করা হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে মুর্শিদাবাদের হোল্ডিং সেন্টারে ৬৩ জন এবং মালদায় ৯ জনকে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে প্রায় দেড়শোর মতো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিজেরাই দেশ ছাড়ার জন্য ভিড় জমিয়েছেন। তবে তাঁদের বাংলাদেশে ঢোকার ক্ষেত্রে কিছু আইনি ও কৌশলগত সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশকারীদের কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদে ওপারে পাঠানো যায়, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government)।
এত দ্রুত এই বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীকে কীভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। নবান্ন সূত্রের দাবি, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে গত এক বছরের নিখুঁত পরিকল্পনা। ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO) বা ‘এফআরআরও’ দীর্ঘদিন ধরে একটি ডেটাবেস তৈরি করছিল। যেসব বাংলাদেশি নাগরিক ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার (Visa overstay) পরেও অবৈধভাবে এ রাজ্যে বসবাস করছেন, তাঁদের একটি তালিকা পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে হস্তান্তর করে এফআরআরও। সেই তালিকা মিলিয়েই এখন চিরুনি অভিযান চালিয়ে এই বিদেশি নাগরিকদের আটক করা হচ্ছে। এই অভিযানে গোয়েন্দা দপ্তরকেও (Intelligence Bureau) চরম সক্রিয় করা হয়েছে। এছাড়া, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে বন্দি থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের সাজার মেয়াদ শেষ হলেই তাঁদের আইন মেনে সীমান্ত পার করে দেওয়া হবে।
প্রশাসনিক স্তরে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (Special Intensive Revision) বা SIR শুনানির কাজ শুরু হতেই অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই শুনানির ভয়েই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের একটা বড় অংশ নিজেরাই পাততাড়ি গুটিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। ফলে নিউ টাউন সহ বহু এলাকার অবৈধ ঝুপড়ি রাতারাতি ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি, প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ এই ‘SIR’ শুনানিতে অংশ নেননি। নবান্নের ধারণা, এই বিপুল সংখ্যক অনুপস্থিত মানুষের একটা বড় অংশই আসলে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী। নবান্নের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, অতীতে বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে, গরিব ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষকে টাকার বিনিময়ে এক শ্রেণির দালাল বা এজেন্টদের (Human trafficking agents) মাধ্যমে ওপার থেকে বেআইনিভাবে বর্ডারের এপারে আনা হয়েছে। তারপর জাল নথির সাহায্যে তাঁদের ভুয়ো আধার, প্যান কিংবা ভোটার কার্ড (Fake identity cards) বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদা, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এমন ভুরি ভুরি জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে।
বর্তমানে এই পরিস্থিতি সামলাতে সব জেলার পুলিশকে ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ কঠোর ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার (Strict security) বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো আটক বাংলাদেশি সেখান থেকে পালিয়ে যেতে না পারেন বা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটান। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে হোল্ডিং সেন্টারে একজন অনুপ্রবেশকারীকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন আটকে রাখার কথা বলা হলেও, প্রশাসনিক কর্তারা চাইছেন মাত্র তিন দিন বা তারও কম সময়ের মধ্যে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁদের পুশ ব্যাক করতে।
এই জ্বলন্ত ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র পারদ চড়েছে। আসানসোলের একটি অনুষ্ঠানে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পূর্বতন সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘পূর্বতন সরকারের আমলে এই বাংলাদেশিরা অবৈধ পথে এ দেশে ঢুকেছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এঁদের ভোটের রাজনীতির (Vote bank politics) কাজে ব্যবহার করেছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, এই অবৈধ নাগরিকদের জন্য এ রাজ্যের কল্যাণমূলক তহবিলের (Welfare fund) টাকা খরচ করা বা রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ করা কোনোভাবেই উচিত নয়। এঁদের সীমান্তবর্তী এলাকার বিশেষ শিবিরে রেখে দ্রুত বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া উচিত, যাতে তাঁরা নিজেদের দেশে ফিরে যান।












