TMC candidates list: ৪ মন্ত্রী ৭৪ বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দিল না তৃণমূল

ভারত - প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১২:১৬

West Bengal assembly election: দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংকে বাদ দিয়ে ২৯১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়েছে। ওই তিনটি ভোটে লড়বে অনিত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। এছাড়া তারুণ্যে জোর দিয়ে নতুন মুখ ১৪১

tech manifesto 2019 trinamool congress.jpg

এক, দুই জন নয়। একেবারে ৭৪ জন বিধায়ক ও ৪ জন মন্ত্রী টিকিট পেলেন না ঘাস ফুল শিবিরে (TMC candidates list)। জানা গেছে, পুরোনো প্রার্থীর কেউ নিজে থেকে এবার ভোটে দাঁড়াতে চাইছিলেন না তো কেউ তাঁর জায়গায় সন্তানকে প্রার্থী করার জন্য সওয়াল করেছিলেন। আবার দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেলে গিয়েছেন কেউ। সব মিলিয়ে ব্রাত্য উক্ত সংখ্যার নেতা ও মন্ত্রী।

মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংকে বাদ দিয়ে ২৯১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়েছে। ওই তিনটি ভোটে লড়বে অনিত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। এছাড়া তারুণ্যে জোর দিয়ে নতুন মুখ ১৪১ (TMC candidates list)।

২৯১ টি আসনের মধ্যে প্রার্থী তালিকায় ‘নতুন মুখ’ ১৪১ জন অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক আসনেই এবার ‘নতুন মুখে’ ভরসা রাখল ঘাসফুল শিবির । একাধিক প্রভাবশালী বিধায়ককেও প্রার্থী তালিকায় জায়গা দেয়নি তৃণমূল।

 

বিধানসভা ভোটে টিকিট পেলেন না যে বিধায়করা

 

১) বাঁকুড়ার রানিবাঁধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি এ বার আর টিকিট পাননি। বদলে প্রার্থী হয়েছেন তনুশ্রী হাঁসদা।

২) শিবপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারিও বাদ পড়েছেন। তাঁর জায়গায় হাওড়ায় এসেছেন রানা চট্টোপাধ্যায়।

৩) টিকিট পাননি মালদার হরিশচন্দ্রপুরের বিধায়ক তাজমুল হোসেনও। সেই জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে মুহাম্মদ মাতেবুর রহমানকে।

৪) বর্ষীয়াণ তৃণমূল নেতা তথা জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়ও বাদ পড়েছেন। প্রার্থী হয়েছেন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন।

৫) টিকিট পাননি বিধায়ক ফিরোজা বিবি। তাঁর জায়গায় পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পশ্চিমের প্রার্থী করা হয়েছে সিরাজ খানকে।

৬) পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইয়াকে ফের প্রার্থী করা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল। কিন্তু টিকিট পাননি তিনিও। বদলে প্রার্থী হয়েছেন আশিস হুদাইত।

৭) পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্টর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে প্রতিভারানি মাইতিকে।

৮) তমলুকের চার বারের বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্রও এ বার বাদ গিয়েছেন। সেখানে প্রার্থী হয়েছেন দীপেন্দ্র নারায়ণ রায়।

৯) পাঁশকুড়া পূর্ব আসন থেকে বিপ্লব রায়চৌধুরীকেও সরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তাঁর জায়গায় অসীম কুমার মাজিকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

১০) মালদার মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রের জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন কবিতা মণ্ডল।

১১) উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়াতেও বড় রদবদল হয়েছে। বিধায়ক মঞ্জু বসুর বদলে টিকিট পেয়েছেন তীর্থঙ্কর ভট্টাচার্য।

১২) জোড়াসাঁকোর বিবেক গুপ্তকে বাদ দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে বিজয় উপাধ্যায়কে।

১৩) ভোটে লড়ার ইচ্ছা নেই বলে আগেই জানিয়েছিলেন বারাসতের বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। তাঁর জায়গায় প্রার্থী হয়েছে সব্যসাচী দত্ত।

১৪) রাণাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীও বাদ পড়েছেন। প্রার্থী হচ্ছেন সৌগত কুমার বর্মন।

১৫) চুঁচুড়ার অসিত মজুমদার টিকিট না পাওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তাঁর জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য।

১৬) লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারীকেও এ বার আর টিকিট দেয়নি তৃণমূল। বলাগড়ের তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন রঞ্জন ধাড়া।

১৭) উত্তরপাড়ায় টিকিট পাননি অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকও। সেখানে প্রার্থী করল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৮) প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে টিকিট দেওয়া হবে না বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। সেটাই সত্যি হলো। বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী হয়েছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়।

১৯) নদিয়ার পলাশিপাড়ার বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য এ বার টিকিট পাননি। নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানোর পরে এই নিয়ে প্রায় নিশ্চিত ছিলেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁর জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন রুকবানুর রহমান।

২০) মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এখন জেলে রয়েছেন। প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন তিনিও। বদলে প্রতিমা রজককে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

২১) বেলঘাটার পরেশ পালকে বাদ পড়ায় চমকে গিয়েছেন অনেকেই। তাঁর জায়গায় দাঁড়িয়েছেন কুণাল ঘোষ।

২২) বালিগঞ্জের বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয় এখন রাজ্যসভার সাংসদ। তাঁর কেন্দ্র থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে।

২৩) টিকিট পাননি পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষও। তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রার্থী করা হয়েছে।

২৪) মানিকতলার বিধায়ক সুপ্তি পান্ডের জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন তাঁর মেয়ে শ্রেয়া পান্ডে।

২৫) এন্টালির বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে তাঁর ছেলে সন্দীপন সাহা।

২৬) মহেশতলার বিধায়ক দুলালচন্দ্র দাস এ বার প্রার্থী হননি। তাঁর ছেলে শুভাশিস দাসকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।

এছাড়াও অনেক বিধায়কই টিকিট পাননি। তবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই মমতা জানিয়েছিলেন, যাঁদের নাম নেই, তাঁদের অন্য কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে দলের।

Scroll to Top