Falta repoll 19 May: ফলতায় ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে ‘পুষ্পা’র আত্মসমর্পণ! শুভেন্দুর ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’ ধাক্কায় রণক্ষেত্র ছাড়লেন অভিষেকের সেনাপতি জাহাঙ্গির
Falta repoll 19 May- দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাইভোল্টেজ ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে ঘটে গেল এক অভাবনীয় রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। ভোটের ময়দানে পুরোপুরি একা হয়ে যাওয়া তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান শেষ মুহূর্তে লড়াই থেকে পিছু হটলেন। মঙ্গলবার, প্রচারের শেষ লগ্নে একপ্রকার আকস্মিকভাবেই ‘পুষ্পা’ খ্যাত এই বিদায়ী নেতার ঘোষণা— তিনি আর এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। যদিও এই নাটকীয় পশ্চাৎপসরণের নেপথ্যে দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো অলিখিত ডিক্রি রয়েছে কি না, তা নিয়ে রহস্য বজায় রেখেছেন জাহাঙ্গির (Falta repoll 19 May)।
আইনি মারপ্যাঁচে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়ে যাওয়ায় ইভিএমে জাহাঙ্গির খানের নাম ও প্রতীক অপরিবর্তিতই থাকছে। কিন্তু তাঁর এই কার্যত আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত চব্বিশের নির্বাচনী সমীকরণকে এক লহমায় বদলে দিল। মঙ্গলবার সকালে যখন নিজের বাসভবনে বসে গলা বুজে আসা গলায় জাহাঙ্গির ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করছেন, ঠিক তখনই ফলতার রাজপথে গেরুয়া আবির উড়িয়ে বিজয়োৎসবে মেতে উঠেছে পদ্ম শিবির। কাকতালীয়ভাবে, সেই মুহূর্তেই ফলতায় বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে এক মহাসমুদ্রসম রোড-শো নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সাদা শার্ট আর কালো ট্রাউজার্সে চেনা মেজাজ হারিয়ে ফেলা জাহাঙ্গির এদিন দাবি করেন, ফলতার উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার জন্য যে ‘স্পেশ্যাল প্যাকেজ’ ঘোষণা করেছেন, তাকেই ঢাল করে মাঠ ছাড়লেন তিনি। ‘সোনার ফলতা’ গড়ার আবেগঘন বার্তা দিয়ে জাহাঙ্গির জানান, তিনি ভূমিপুত্র হিসেবে ফলতায় শান্তি ও সুস্থ পরিবেশ চান। তবে দলীয় নেতৃত্বের চাপ বা কোনো গোপন সমঝোতার প্রশ্নে সুচতুরভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।
গত ২৯ এপ্রিল রাজ্যের শেষ দফার ভোটে ফলতার একাধিক বুথে ইভিএমে কালি, আতর ও টেপ লাগানোর মতো বেনজির কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। বিদায়ী বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর জোরালো দাবির মুখে নির্বাচন কমিশন ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ফলাফল প্রকাশ হতেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতা দখল করে বিজেপি সরকার।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েন জাহাঙ্গির। ডায়মন্ড হারবারের দাপুটে নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের আগে তাঁর হয়ে প্রচার করলেও, পটপরিবর্তনের পর তৃণমূলের কোনো বড় নেতাকে আর ফলতায় দেখা যায়নি। সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়া জাহাঙ্গির দিনকয়েক আগে নিজের কার্যালয় খুলে অবাধ্য মেজাজে হুঙ্কার দিয়েছিলেন। ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করা এই নেতা বলেছিলেন, তিনি মাথা নোয়াবেন না। কিন্তু বাস্তব রাজনীতির রূঢ় জমিতে দাঁড়িয়ে সেই দর্প চূর্ণ হতে সময় লাগল না।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ফলতার মাটি কামড়ে পড়ে থেকে লাগাতার আক্রমণ শানিয়েছেন ‘ভাইপোর পুষ্পা’র বিরুদ্ধে। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি এবং ফলতার জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের লোভনীয় প্রতিশ্রুতির সামনে শেষ পর্যন্ত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ঘাসফুল শিবিরের প্রতিরোধ। সোমবারই গ্রেফতারি এড়াতে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আইনি রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন জাহাঙ্গির, আর তার পরের দিনই রণে ভঙ্গ দিলেন। ভোটের দিনের বুথ জ্যাম ও কারচুপির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ২১ মে-র মহাযুদ্ধের আগেই ফলতার ‘পুষ্পা’ যে মাথা নোয়াতে বাধ্য হলেন, তা বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইতিহাসে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।












