West Bengal Election Results 2026: কার হাতে বাংলার চাবিকাঠি? ২৯৩ আসনের মহাযুদ্ধে আজ ফয়সালা!

ভারত - প্রকাশিত: ৪ মে ২০২৬, মধ্যরাত ১:৩৬

সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা: নবান্ন কি ঘাসফুলেই থাকছে, না কি গেরুয়া ঝড়ে পতন?

IMG 20260504 WA0001

West Bengal Election Results 2026-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবথেকে রোমাঞ্চকর এবং স্নায়ুচাপের দিন আজ। ১৫ মার্চের বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিলের রুদ্ধশ্বাস ভোটদান— দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে ভোটগণনা। বিকেলের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে, নবান্নের ১৪ তলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়কেতন ফের উড়বে, নাকি দেড় দশক পর গঙ্গার ওপার থেকে শাসনের রাশ চলে আসবে লালদিঘির পাড়ের ‘লালবাড়ি’ বা মহাকরণে (West Bengal Election Results 2026)।

জাদুসংখ্যার সমীকরণ এবং ফলতার কাঁটা

প্রথাগতভাবে ২৯৪ আসনের লড়াই হলেও আজ গণনা হচ্ছে ২৯৩টি কেন্দ্রে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা আসনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বাতিল করেছে কমিশন। ফলে সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৪৭-এ। ফলতায় পুনরায় ভোট হবে ২১ মে। তবে বাংলার ভাগ্যবিধাতা কে হতে চলেছেন, তা আজ ২৯৩ আসনের ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা।

দুর্গ রক্ষা বনাম দুর্গ দখল: কার পাল্লা ভারী?

প্রথম দফার ভোটে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের মতো বিজেপির তথাকথিত ‘শক্ত ঘাঁটি’গুলোতে পরীক্ষা দিয়েছেন প্রার্থীরা। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফায় লড়াই ছিল তৃণমূলের খাসতালুক দক্ষিণবঙ্গে। বুথফেরত সমীক্ষাগুলোর অধিকাংশ ইঙ্গিত দিয়েছে ‘পরিবর্তন’-এর দিকে, যেখানে পদ্ম শিবিরের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। তবে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাসে বিন্দুমাত্র চিড় ধরেনি। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, ২০২১ এবং ২০২৪-এর বুথফেরত সমীক্ষাও ভুল প্রমাণিত হয়েছিল, এবারও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

ভবানীপুর: যেখানে ইতিহাস সৃষ্টি হবে আজ

এবারের নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। ২০২১-এ নন্দীগ্রাম যা ছিল, ২০২৬-এ ভবানীপুর তাই। তবে ফারাকটা আকাশপাতাল। বাংলার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আসলি লড়াই হচ্ছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বনাম বর্তমান বিরোধী দলনেতার মধ্যে। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনা কক্ষের দিকে তাই আজ তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। হার-জিত যাই হোক না কেন, এই লড়াই আগামীর বঙ্গ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

রেকর্ড ভোট এবং সাইলেন্ট ভোটারদের রহস্য

এবারের নির্বাচনে এসআইআর-এর কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, ভোটদানের হার ছাপিয়ে গেছে আগের সব রেকর্ড। ২০২১-এর তুলনায় এবার ৩০ লক্ষেরও বেশি ভোটার বুথমুখী হয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল সংখ্যা কি পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করছে? নাকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুফল পাওয়া মহিলা ভোটারদের নিঃশব্দ সমর্থন মমতার হাত শক্ত করেছে? সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ফাটল ধরা কিংবা হিন্দু ভোটের মেরুকরণ— সব তর্কের অবসান ঘটবে আর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে।

গণনা শেষে শান্তি না কি প্রতিহিংসা?

ভোট পরবর্তী হিংসার স্মৃতি বাংলার মানুষের মনে এখনও দগদগে। প্রচার চলাকালীন মোদী-শাহর ‘হিসাব বুঝে নেওয়া’ কিংবা অভিষেকের ‘ঝান্ডার সাথে ডান্ডা’ আর ‘ডিজে’ বাজানোর হুঁশিয়ারি সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও শমীক ভট্টাচার্যরা শান্তির কথা বলছেন, আর কুণাল ঘোষ নিউটনের গতিসূত্র আওড়ে পালটা হুঙ্কার দিচ্ছেন, তবু গণনা কেন্দ্রের বাইরে থমথমে পরিবেশ।

জাতীয় প্রেক্ষাপটে বাংলার গুরুত্ব

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, আজ ফলপ্রকাশ অসম, তামিলনাড়ু ও কেরলেও। বিশেষ করে কেরলে বামেদের অস্তিত্ব টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবল চর্চা। যদি কেরলে বামেদের পতন ঘটে, তবে ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথম ভারতের মানচিত্র হবে ‘বামশূন্য’। তবে সব ছাপিয়ে ভারতের নজর আজ তিলোত্তমার দিকে— বাংলা কি আজ আবার ‘পরিবর্তন’ দেখবে, নাকি মমতার ‘প্রত্যাবর্তন’ই হবে শেষ কথা? উত্তর পাওয়ার প্রহর গোনা শুরু।

Scroll to Top