Mamata Banerjee 2026: গণনাকেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ
Mamata Banerjee 2026- সোমবার এক কলঙ্কিত অধ্যায় রচিত হলো শাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনাকেন্দ্রে। তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী এজেন্টদের ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই কোনো প্রোটোকল বা নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে ঘরের পোশাকেই সেখানে ছুটে যান বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে তাঁকে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হলো, তা কেবল নজিরবিহীন নয়, বরং আধুনিক গণতন্ত্রের কপালে এক মস্ত বড় কলঙ্ক। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা জানালেন, তা রীতিমতো হাড়হিম করা (Mamata Banerjee 2026)।
এদিন সাংবাদিকদের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে অভিযোগ করেন যে, তাঁকে সশরীরে আঘাত করা হয়েছে। একজন লড়াই করা নেত্রী তথা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বৈধ প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে তিনি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে একটি সুপরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গেরুয়া শিবিরকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি একে একটি ‘দানবিক পার্টি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, যারা একজন প্রার্থীর নূন্যতম সম্মান রক্ষা করতে জানে না, তারা বাংলার সংস্কৃতি ও গণতন্ত্রের জন্য চরম বিপজ্জনক।
কেবল শারীরিক নিগ্রহ নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের তির ছিল আরও গভীরে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন যে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন যোগসাজশ করে অন্তত ১০০টি আসন চুরি করেছে। সাধারণ মানুষের দেওয়া রায়কে গায়ের জোরে বদলে দেওয়ার এই অপচেষ্টাকে তিনি তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, গণনাকেন্দ্রের ভেতর থেকে এজেন্টদের বের করে দিয়ে অবাধে ছাপ্পা এবং কারচুপি চালানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
এই ঘটনার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ গণনা প্রক্রিয়া বজায় রাখার দায়ভার যাদের ওপর ছিল, তারা নির্বাক দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এই নক্কারজনক ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি উচ্চতর স্তরে অভিযোগ জানাবেন। গণতন্ত্রের এই বর্বরোচিত লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে তৃণমূল সুপ্রিমো যে আইনি এবং রাজনৈতিক—উভয় পথেই কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছেন, তাঁর শরীরী ভাষা ও বাচনভঙ্গি থেকে তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।












