Shab-E-Barat 2026: ঐতিহ্য ও শরিয়তের সীমারেখা
আজ পবিত্র Shab-E-Barat । হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানেরা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। রাতটি আরবিতে ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবে পরিচিত। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত আর ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। আজ সেই মুক্তির রাত বা ‘লাইলাতুল বরাত’।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় নফল নামায, কুরআন তিলাওয়াতসহ ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পুণ্যময় এ রাতটি কাটিয়ে থাকেন। অতীতের পাপ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন তাঁরা।
হাদিসে শবে বরাত
এই রাতের মহত্ব সম্পর্কে মহানবীর একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রহমত এই রাতে সৃষ্টির ওপর বর্ষিত হয়। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে,, নবীজি (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা মধ্য-শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বনু কালব গোত্রের ভেড়াগুলোর পশমের চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)
আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে আছে, নবীজি (সা.) বলেন, “আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)
বর্জনীয় সংস্কৃতি
শবে বরাতের এই পবিত্রতাকে ক্ষুণ্ণ করে এমন অনেক প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। যা ইসলামের মূল চেতনার পরিপন্থী। ইবাদতের এই রাতকে আনন্দ-উৎসবে রূপ দেওয়া অনুচিত:
আতশবাজি ও পটকা ফোটানো: শবে বরাত উপলক্ষে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের বহু জায়গায় আতশবাজি বা পটকা ফোটানোর একটি বিজাতীয় রেওয়াজ দিনের পর দিন চলে আসছে। যদিও ইদানিং সময়ে সেটা অনেকটা কমেছে। তারপরেও এই বিজাতীয় জিনিস গুলো সম্পূর্ণ ইসলামবহির্ভূত এবং অপচয়।
অতিরিক্ত আলোকসজ্জা: উৎসবের আমেজ দিতে গিয়ে মসজিদ বা ঘরবাড়িতে যে জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা করা হয়, অনেক আলেম একে অতিরঞ্জন ও অপব্যয় হিসেবে গণ্য করেন।
অহেতুক ঘুরাঘুরি: ইবাদত বাদ দিয়ে দলবেঁধে রাস্তায় ঘোরাঘুরি বা উচ্চস্বরে শব্দ করা এই রাতের গাম্ভীর্য নষ্ট করে।
খাদ্য নিয়ে বাড়াবাড়ি: Shab-E-Barat মানেই হালুয়া-রুটির উৎসব নয়। এই প্রথাটি ঐতিহ্যের অংশ হলেও একে ধর্মীয় আবশ্যকতা মনে করা ভুল। মনে রাখতে হবে, এটি মূলত স্রষ্টার কাছে চাওয়ার রাত, খাওয়ার রাত নয়।
ইবাদতে নিমগ্নতা কাম্য
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আমাদের যাপিত জীবনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি এক ধরনের সামাজিক মেলবন্ধন তৈরি হয়। এই রাতের আমলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
নফল নামায ও কুরআন তেলাওয়াত: রাতভর আল্লাহর জিকির ও দীর্ঘ সেজদায় আত্মিক শান্তি অন্বেষণ।
দান-সদকা: অভাবী ও দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়ে ত্যাগের মহিমা প্রচার।
কবর জিয়ারত: আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করা স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবরস্থানে যাওয়া। যা আমাদের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তবে বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়েও হৃদয়ের পবিত্রতা ও একাগ্রতাই এই রাতের মূল লক্ষ্য।
আত্মশুদ্ধির অঙ্গীকার
পবিত্র এই রজনীর মূল লক্ষ্য হলো তওবা ও আত্মশুদ্ধি। বিদ্বেষ পোষণকারীকে যেহেতু এই রাতে ক্ষমা করা হয় না, তাই আমাদের উচিত অন্যের প্রতি হিংসা ত্যাগ করে হৃদয়কে পরিচ্ছন্ন করা। বর্তমান অস্থির পৃথিবীতে শান্তি ও সহমর্মিতার বড় বেশি অভাব। শবে বরাতের এই প্রদীপ্ত রাত আমাদের শিক্ষা দেয় সংকীর্ণতা পরিহার করার।












