SDPI: মালদার বৈষ্ণবনগরে অনুষ্ঠিত হল SDPI-এর বিশাল বৈষম্যবিরোধী সমাবেশ

ভারত - প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত ১০:০২
IMG 20251224 WA0018

আজ মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর বিধানসভার পার দেওনাপুর–শোভাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দৌলতহাটে অনুষ্ঠিত হয় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়া (SDPI)-এর বৈষম্যবিরোধী সমাবেশ। সংবিধান রক্ষা, মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা, ওবিসি অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন SDPI-এর রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম, জাতীয় সম্পাদিকা রুনা লায়লা, রাজ্য সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক সুমন মণ্ডল, রাজ্য সম্পাদক মাসাদুল ইসলাম, জেলা সভাপতি হযরত আলী, জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ মকুল হক, বিধানসভা সভাপতি মাসুদ রানা, বিধানসভা সম্পাদক শাহীন রেজা-সহ একাধিক নেতৃত্ব।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসডিপিআই-এর রাজ্য সভাপতি হাকিকুল ইসলাম বলেন, দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর পরিকল্পিতভাবে আঘাত নামিয়ে আনা হচ্ছে। সংখ্যালঘু, ওবিসি, দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার একের পর এক খর্ব করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

শিক্ষা, চাকরি, সামাজিক সুরক্ষা এবং ওয়াকফ সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে যে বৈষম্য চলছে, তা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক বলে তিনি মন্তব্য করেন। রাজ্যের তৃণমূল সরকার পরিকল্পিতভাবে রাজ্যের এই দুর্দশা তৈরি করেছে।

হাকিকুল ইসলাম আরও বলেন, এই যাবতীয় বৈষম্য মুছে ফেলে একটি সুন্দর সমাজ, ন্যায়ভিত্তিক রাজ্য এবং শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে এসডিপিআই-কে ক্ষমতায় একমাত্র বিকল্প পথ। সংবিধান প্রদত্ত সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠিত রাজনৈতিক লড়াইই একমাত্র পথ বলে তিনি জানান।

সভা থেকে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন— সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী থেকে যাদের পরিকল্পিতভাবে দুষ্কৃতী তৈরি করা হয়েছে তাদের পরিবর্তনের জন্য বিশেষ সংরক্ষণ, ব্যবস্থা করবে এসডিপিআই।

স্থানীয় সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে এসডিপিআই-এর মালদা জেলা সভাপতি হযরত আলী বলেন, বৈষ্ণবনগরের পার লালপুর ফেরিঘাট সংক্রান্ত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসা পরিষেবায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সমাবেশে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে SDPI-এর জাতীয় সম্পাদিকা রুনা লায়লা বলেন, আজকের ভারতে ভিন্নমত দমন, নাগরিক অধিকার খর্ব করা এবং সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, সংবিধানই দেশের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ, আর সেই সংবিধান রক্ষার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পথে নামতে হবে।

রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে SDPI-এর রাজ্য সম্পাদক মাসাদুল ইসলাম বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রতি অবহেলা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, এসডিপিআই একটি বিকল্প রাজনীতির কথা বলে—যেখানে ধর্ম, জাতি বা শ্রেণির ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে সকলের সমান অধিকার ও ন্যায্য উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়াও ব্যবসা, চাকরি, শিক্ষা, জমির মালিকানা যাবতীয় বিষয়ে ব্রাহ্মণদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার তথ্য তিনি তুলে ধরেন। এবং দেশের মাটিতে শতাধিক পিটিয়ে হত্যা।

তামান্না, আনিস খানের বিচার না হলেও সামসেরগঞ্জের ঘটনায় বিচার হয়ে যায়। তিনি এটাকেও বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করে তামান্নার ন্যায় বিচার দাবী করেন।

Scroll to Top