SIR শুনানি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূলের
ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে হয়রানি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিপন্নের আশঙ্কা। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের। এই নিয়ে লিখেছেন সাংবাদিক সুমিত দে
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। এই সংক্রান্ত এক চিঠিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (Chief Electoral Officer) উদ্দেশ্য করে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে—SIR শুনানির নামে ভোটারদের উপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে কার্যত দমনমূলক করে তোলা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তথাকথিত “লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি” বা তথ্যগত অসঙ্গতির অজুহাতে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে শুনানির জন্য তলব করা হচ্ছে। অথচ এই অসঙ্গতির মূল কারণ বহু ক্ষেত্রে ক্লারিক্যাল ভুল, পুরনো নথির ত্রুটি, ডিজিটাইজেশনের ঘাটতি বা নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ডেটাবেসের অসামঞ্জস্য।
বংশপরিচয়ের প্রমাণ চাওয়া নিয়ে আপত্তি
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নতুন করে এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটারদের বাবা-মা এমনকি দাদা-দিদার সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণের নথি আপলোড করতে বলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নথি জমা দিতে না পারলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটারকে শুনানির তালিকায় পাঠানো হচ্ছে।
চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই ধরনের শর্তের কোনও আইনগত ভিত্তি নেই এবং তা অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত। এর ফলে গ্রামীণ ভোটার, পরিযায়ী শ্রমিক, মহিলা ও আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন—যাঁদের কাছে এই ধরনের বংশলতিকা সংক্রান্ত নথি অনেক ক্ষেত্রেই সহজলভ্য নয়।
বিকেন্দ্রীকরণের বদলে কেন্দ্রীয়করণ—প্রশাসনিক অচলাবস্থা?
আরও অভিযোগ, আগে যে বিকেন্দ্রীভূত পদ্ধতিতে স্থানীয় অফিসে শুনানির ব্যবস্থা ছিল, সেখান থেকে সরে এসে এখন প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি মাত্র কেন্দ্রে শুনানি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উপলব্ধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটারকে শুনানির জন্য হাজির হতে হতে পারে। অথচ পুরো প্রক্রিয়া সামলানোর দায়িত্ব থাকবে মাত্র ১০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (AERO) উপর। ফলে প্রত্যেক AERO-কে দিনে ১৬০টিরও বেশি শুনানি নিতে হবে—যা বাস্তবসম্মত নয় বলেই দাবি তৃণমূলের।
নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের কাছে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। দলের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাখতেই এই পদক্ষেপ জরুরি।












