SIR: অন্যায়ভাবে নাম কাটলে রুখে দাঁড়ান, নবান্ন থেকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

ভারত - প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩৮

নথি জমার রসিদ নেওয়ার পরামর্শ 

IMG 20260113 WA0038

সুমিত দে, কলকাতা: ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee)।

মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেন, বাংলায় পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।

মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “অন্যায়ভাবে নাম কাটলে রুখে দাঁড়ান। বিএলও, ইআরওদের প্রশ্ন করুন। নিজেদের অধিকার নিজেরাই ছিনিয়ে নিন।”

মতুয়া সমাজ, পরিযায়ী শ্রমিক, নতুন ভোটার ও স্থানান্তরিত ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের নাম কেন বাদ গেল, তা জানতে চাইবেন। বিএলও, ইআরও বা জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানান। কাগজপত্র জমা দিলে অবশ্যই রসিদ নেবেন।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ইতিমধ্যেই ৫৪ লক্ষ ভোটারের নাম কোনও কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। টার্গেট করা হয়েছে বিশেষ করে মহিলাদের। বাড়ি বদল করেছেন এমন বহু মানুষের নামও কাটা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই প্রকৃত ও বৈধ ভোটার। অথচ কাউকে আগাম কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি।

মমতার দাবি, প্রশাসনিক স্তরের আধিকারিকরাও বিষয়টি জানতেন না। তাঁর কথায়, “বলা হচ্ছে ইআরওরা করেছে। কিন্তু ইআরওরাও জানতেন না। সবকিছু মাইক্রো অবজারভাররা ক্রস করেছে।” নজরদারি ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী বিএলএ-২ প্রতিনিধিদের শুনানিতে থাকার কথা থাকলেও বিজেপির এজেন্ট না থাকায় তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ মাইক্রো অবজারভারদের সেখানে থাকার কোনও নিয়মই নেই। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “এআই ব্যবহার করে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “বাতিল নামের তালিকা কোনও রাজনৈতিক দলকে দেওয়া হয়নি, শুধু বিজেপির হাতেই রয়েছে। কারণ ওদের নির্দেশেই সব হচ্ছে।” যাঁদের নাম কাটা হয়েছে, তাঁদের ফর্ম ৭ ও ফর্ম ৮ পূরণ করে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।

বিহার, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানাতেও একই ছকে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর বক্তব্য, “সেখানেও কেউ কিছু জানতেই পারেনি। ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনেই ভোট ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ আদালতে যাওয়ার সুযোগ না পায়।”

সিএএ প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “আড়ালে সিএএ কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। বাইরে থেকে লোক এনে ভোটার বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। কোনও নিয়ম মানা হচ্ছে না।”

SIR-এর চাপ ও হয়রানিতে মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়ার চাপে এখনও পর্যন্ত ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকেই নিতে হবে।”

তিনি জানান, নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মী রতন শুক্লার নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

সবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, “কোর্টের উপর আমার সম্পূর্ণ ভরসা আছে। ভয় পাবেন না। বৈধ ভোটারদের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দিলে আমরা চুপ করে ললিপপ খাব না।”

Scroll to Top