RSS Influence WB Education 2026: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাঙ্গনে আরএসএস ও সহযোগী সংগঠনগুলির দ্রুত প্রভাব বিস্তার
RSS Influence WB Education 2026- রাজ্য রাজনীতিতে পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাঙ্গনে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই রাজ্যের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আরএসএস-এর বিভিন্ন শাখা সংগঠনগুলির সক্রিয়তা ও প্রভাব অভাবনীয় গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত ৪ মে-র পর থেকে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল (বিএসএম), অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (এবিআরএসএম) এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর সদস্য হওয়ার ঝোঁক শিক্ষক, অধ্যাপক ও পড়ুয়াদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রসারের নেপথ্যে রয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি-২০২০) দ্রুত রূপায়ণের লক্ষ্য এবং রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা (RSS Influence WB Education 2026)।
বিএসএম-এর নজরে জাতীয় শিক্ষানীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি
ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল (বিএসএম) মূলত শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও তার উৎকর্ষ সাধনে বিশ্বাসী। কেন্দ্র সরকারের ঘোষিত এনইপি-২০২০-এর প্রস্তাবনার বড় অংশ বিএসএম-এর তৈরি। এতদিন পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই নীতির রূপায়ণে আগ্রহী না থাকায় এবং বাম-তৃণমূল জমানায় শিক্ষা ব্যবস্থা বিপথে চালিত হয়েছে বলে সংগঠনের ধারণা। এই প্রেক্ষাপটে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায়, বিএসএম এখন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে। সংগঠনের লক্ষ্য, যোগ্য লোকবল তৈরির মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত সংস্কার আনা।
এবিআরএসএম-এর সদস্য সংগ্রহে লক্ষ্য এক লক্ষ
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (এবিআরএসএম) এই পরিবর্তনের হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে সদস্যসংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধির পথে হাঁটছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পূর্বেই সংগঠনটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, রাজ্যের শিক্ষা বিভাগে নিজেদের অস্তিত্বকে আরও মজবুত করতে হবে। বর্তমানে ৩১৫টি ব্লকে সক্রিয় এবিআরএসএম-এর লক্ষ্য, সদস্যসংখ্যা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লক্ষ ছাড়িয়ে যাওয়া। রাজ্যের অধিকাংশ সার্কেলে ইতিমধ্যে তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে, যা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত করার প্রক্রিয়া চলছে।
এবিভিপি-র দ্রুত সম্প্রসারণ ও ‘ছাঁকনি’ নীতি
ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) সবথেকে দ্রুত গতিতে নিজেদের পরিধি বাড়াচ্ছে। গত ১৭ দিনে রাজ্যের ৯৬টি কলেজ থেকে বেড়ে ৪১৮টি কলেজে এবিভিপি-র পদার্পণ ঘটেছে। যদিও নতুন সদস্যপদ দেওয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি, তবে ‘ছাত্রশক্তি’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে পড়ুয়াদের একত্রিত করা হচ্ছে। ৯ জুনের পর থেকে সদস্যপদ প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত বা অতীতে মেয়েদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি বা নেতাকে এবিভিপি-তে ঠাঁই দেওয়া হবে না।
সংগঠন বিস্তারে সতর্কতামূলক অবস্থান ও শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া
বিজেপি রাজনৈতিকভাবে নতুন সদস্য নেওয়া আপাতত বন্ধ রাখলেও, আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলি নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধিতে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। তবে সংগঠনগুলি এক সুনির্দিষ্ট ‘ছাঁকনি’ নীতি অনুসরণ করছে। তৃণমূল বা বাম আমলে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে আপত্তি না থাকলেও, দুর্নীতি, স্বজনপোষণ বা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কঠোরভাবে দূরে রাখা হচ্ছে। নবনিযুক্ত সদস্যদের দীক্ষিত করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণমূলক বর্গ বা কর্মশালার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া, সংগঠনের রাশ পুরনো নেতৃত্ব ও মতাদর্শগত আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।












