BJP vs TMC Bengal 4 May: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন চত্বরে বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি, বঙ্গ রাজনীতিতে নজিরবিহীন উত্তেজনা
BJP vs TMC Bengal 4 May- পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটভূমিতে এক আমূল পরিবর্তনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা চলাকালীন যে প্রাথমিক প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে রাজ্যের শাসনক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে (BJP vs TMC Bengal 4 May)।
প্রাথমিক ফলাফলে বিজেপির দাপট ও তৃণমূলের রণকৌশল
ভোটগণনার সূচনালগ্ন থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস যখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, তখন রাজপথের দখল নিতে শুরু করেছেন বিজেপি কর্মীরা। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার অন্তর্বর্তী সময়েই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দোরগোড়ায় পৌঁছে বিরোধীদের এই রণধ্বনি তৃণমূল শিবিরের জন্য এক বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক চাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরাজয় স্বীকার নয়, মরণপণ সংগ্রামের ডাক মমতার
এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেই এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের লড়াকু মেজাজ বজায় রেখেছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, প্রাথমিক ফলাফলে জয়ের আবহ তৈরি করা বিজেপির একটি পরিকল্পিত কৌশল মাত্র। তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, লড়াইয়ের ময়দান তিনি সহজে ছেড়ে দেবেন না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রাথমিক ট্রেন্ডে বিজেপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিটি বুথে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে। বাংলার মসনদ কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে যখন টানটান উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘হুঙ্কার’ দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার এক মরিয়া প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।
বঙ্গ রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন পথে?
বিজেপির এই ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং মমতার অনমনীয় মনোভাব পশ্চিমবঙ্গকে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কালীঘাটের অন্দরে যখন পরবর্তী কৌশল নির্ধারণের বৈঠক চলছে, ঠিক তখন বাইরে বিরোধী শিবিরের বিজয়োল্লাস বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল ও ইঙ্গিতবাহী অধ্যায় হয়ে থাকবে।












