Aliah University farewell ceremony: স্মৃতির অলিন্দে অশ্রুভেজা বিদায়: আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে সম্পন্ন হলো আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
বিশেষ প্রতিবেদন, কলকাতা, ১৫ মে: (Aliah University farewell ceremony) ক্যালেন্ডারের পাতায় আজকের তারিখটা হয়তো আর পাঁচটা দিনের মতোই সাধারণ, কিন্তু আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের করিডোরে আজ বাতাস ছিল কিছুটা ভারী, সুর ছিল বিদায়ের। বিশ্ববিদ্যালয়ের চেনা আঙিনা থেকে আরও একটি ব্যাচের প্রিয় মুখগুলো হারিয়ে যাওয়ার লগ্নে, আজ আরবি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত হলো স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক আবেগঘন বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। চেনা ক্লাসরুম আর চেনা করিডোর ছেড়ে যাওয়ার এই মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক মণ্ডলী, গবেষক (স্কলার) এবং বর্তমান ও বিদায়ী ছাত্র-ছাত্রীরা।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই চেনা ক্যাম্পাসজুড়ে ভর করেছিল একরাশ নস্টালজিয়া। যে চত্বর এতদিন মেতে থাকত বন্ধুদের আড্ডা আর হাসিগল্পে, আজ সেখানেই নেমে এল স্মৃতির অবগাহন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যখন একে একে পরিবেশিত হচ্ছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতি, তখন উপস্থিত অনেকেরই চোখের কোণ অলক্ষ্যে ভিজে উঠেছিল (Aliah University farewell ceremony)।
চেনা গানগুলোর সুর যেন আজ এক নতুন বিরহের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছিল। এরপর শুরু হয় স্মৃতিচারণ; ফেলে আসা দিনগুলোর টুকরো টুকরো গল্প, ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা আর একসাথে কাটানো সোনালী মুহূর্তগুলো বক্তাদের কথায় বারবার ফিরে আসছিল। অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে শিক্ষকদের বিদায়ী ভাষণ। চিরদিনের মতো চেনা আঙিনা ছেড়ে যাওয়া প্রিয় সন্তানদের উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের মূল্যবান বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ জীবনের পথ চলার স্নেহমাখা পরামর্শ যেন এক পরম আশীষের মতো ঝরে পড়ে।
বিদায়ের এই আবেগঘন মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে তাঁদের আগামী দিনের প্রেরণা জোগাতে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান, ড. আনিসুর রহমান এবং ড. রিজওয়ানুল হক। একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে। অনুষ্ঠানটিকে সফলতার চূড়ান্তে নিয়ে যেতে বিভাগের সকল স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এই আবেগময় আয়োজনকে নিখুঁতভাবে রূপ দিতে নেপথ্যের কারিগর হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন ইয়াজ আহমেদ মণ্ডল, আব্দুল কাইয়ুম, রাশিদুল ইসলাম, হুমায়ুন রেজা এবং জাবেদ ডাক্তার। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও চমৎকার সমন্বয় না থাকলে বিদায়ের এই সুর এতটা মধুর হয়ে উঠত না। ক্যাম্পাস হয়তো আজ ফাঁকা হয়ে যাবে, তবে অলিন্দে অলিন্দে প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে ফেলে আসা দিনগুলোর অমলিন স্মৃতি।












