SIR Protest Bengal 29 April: কেন্দ্র-কমিশন আঁতাতের বিরুদ্ধে বাংলার গর্জন: ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে ‘কালা দিবস’

ভারত - প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১১:০৮

মসনদ রক্ষায় নাগরিকত্বের বলি: বিজেপি-কমিশন আঁতাঁতের বিরুদ্ধে বাংলার বজ্রনিঘোষ

IMG 20260429 WA0026 scaled

SIR Protest Bengal 29 April- বাংলার মাটিতে আজ যখন গণতন্ত্রের উৎসবের নামে প্রহসন চলছে, ঠিক তখনই প্রতিরোধের দাবানলে পুড়ছে সীমান্ত জেলাগুলো। দ্বিতীয় দফার ভোট চলাকালীন মেকি উৎসবের আবহে ধ্বনিত হলো বঞ্চনার আর্তনাদ আর তীব্র রাজনৈতিক হুঙ্কার। নাগরিকত্বের তকমা কেড়ে নিয়ে মানুষকে অস্তিত্বহীন করার যে নীল নকশা কেন্দ্র সরকার সাজিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আজ রাজ্যজুড়ে পালিত হলো ‘কালা দিবস’। রাজপথে নেমে আসা ক্ষুব্ধ জনতার চোখে আজ আগুনের ফুলকি, আর বুকে কালো ব্যাজ—যা প্রমাণ করে দেয় যে দিল্লির শাসকের রক্তচক্ষুকে বাংলা ভয় পায় না (SIR Protest Bengal 29 April)।

মুর্শিদাবাদ, লালগোলা, ভগবানগোলা থেকে বসিরহাট—প্রতিটি জনপদ আজ প্রতিবাদের বারুদে তপ্ত। বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও মধ্যরাতে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেওয়ার এই ঘৃণ্য চক্রান্তের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। এটি কেবল ভোটাধিকার হরণ নয়, বরং কেন্দ্র সরকারের পরিকল্পিত ‘SIR’ (Special Intensive Revision)-এর আড়ালে লক্ষ লক্ষ নাগরিককে রাষ্ট্রহীন করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্র।

নির্বাচন কমিশন আজ নিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে বিজেপির তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবাদীরা। ছাত্রপ্রতিনিধি ও লড়াকু শিক্ষক সাজিদুর রহমানের কণ্ঠে ঝরে পড়ল আপসহীন বিদ্রোহের সুর। তিনি সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “এই নির্বাচন অবৈধ। কেন্দ্র সরকারের মদতে SIR-এর দোহাই দিয়ে যেভাবে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। যারা মানুষের নাগরিকত্বকে দাবার ঘুঁটি বানিয়ে ক্ষমতার মসনদ গড়তে চাইছে, তাদের জবাব হবে রাজপথে এবং আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের আঙিনায়।” পার্ক সার্কাসের দীর্ঘ দুই মাসের অবস্থান-বিক্ষোভ আজ দিল্লির তখত্ কাঁপানো মহীরুহে পরিণত হয়েছে।

বিশিষ্ট সমাজসেবী তাসলিম আরিফের ঘোষণা আজ স্পষ্ট—এই আন্দোলন একদিনের প্রতীকী বিক্ষোভ নয়, বরং হৃত অধিকার ফিরে পাওয়ার চূড়ান্ত লড়াই। পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইয়াজ আহমেদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটাধিকার কোনো রাজনৈতিক দলের করুণার দান নয়, এটি জন্মগত অধিকার। এই অধিকার পুনরুদ্ধারে বাংলার যুবসমাজ শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
আব্দুল আওয়াল, ইয়াসিন, শাহানারা খাতুন, সোনামণি খাতুন ও শামসুল আলমের মতো অগণিত মানুষের উপস্থিতি আজ প্রমাণ করেছে যে, দমিয়ে রাখার রাজনীতি আর সফল হবে না। কেন্দ্র সরকারের বিভাজনের রাজনীতি আর নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততার বিরুদ্ধে এই লড়াই আজ আত্মমর্যাদার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। বাংলার মাটি সাক্ষী থাকল, অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে জনতার এই রুদ্ররোষ সহজে থামবার নয়; বরং এই স্ফুলিঙ্গ থেকেই জন্ম নেবে আগামীর মহাবিদ্রোহ।

Scroll to Top