Gaza ceasefire violations 2026: শান্তির আড়ালে রক্তস্নান: গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইলি হামলায় নিহত ১২
Israel-Gaza war casualties: যেখানে শান্তি মানেই এক দীর্ঘশ্বাস: গাজার আকাশে এখন কেবলই লাশের গন্ধ

Gaza ceasefire violations 2026- গাজার মানচিত্রে ‘শান্তি’ শব্দটি এখন রূপকথার গল্পের ন্যায় হয়ে গেছে। শুধু কল্পনা করা যায়, চাক্ষুষ দেখা যায় না। এখানে শান্তি শব্দটা কোনো বিলাসিতার নাম। যেখানে ভোরের সূর্য ওঠে কামানের গর্জনে, আর রাত নামে স্বজন হারানো হাহাকারে। যখন বিশ্বের বড় বড় শহরগুলো একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির রঙিন স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখনই অবরুদ্ধ গাজার আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ল ইসরাইলি বারুদ। মুহূর্তেই নিভে গেল আরও ১২টি তাজা প্রাণের স্পন্দন।
খান ইউনিসের তপ্ত পিচঢালা পথ থেকে বেইত লাহিয়ার ধূলিকণা- প্রতিটি ধূলিকণা এখন ফিলিস্তিনিদের রক্তে ভেজা। এটি কেবল কোনো ভূখণ্ড নয়, এটি এখন পৃথিবীর বুকে এক জীবন্ত মৃত্যুপুরী। সেখানে প্রতিটি নিথর দেহ যেন এক একটি না বলা অভিযোগ। একপাশে চলছে শান্তির টেবিলের দরকষাকষি, আর অন্যপাশে চলছে লাশের মিছিল। যখন একজন বাবা তার সন্তানের নিথর দেহ বুকে নিয়ে আকাশের দিকে তাকান, তখন সেই শূন্য দৃষ্টির সামনে যুদ্ধবিরতির শব্দটা কেবলই এক নিষ্ঠুর তামাশা মনে হয়।
গাজার বাতাস এখন এতটাই ভারী যে, সেখানে শ্বাস নিতে গেলেও বারুদের তিতা স্বাদ পাওয়া যায়। শান্তির সাদা পায়রাগুলো কি তবে গাজার পথ ভুলে গেছে? নাকি মানবতার বিলাপ শোনার মতো কান আজ পৃথিবীর নেই? যখন গাজার প্রতিটি জনপদ একেকটি গণকবরে পরিণত হচ্ছে, তখন বিশ্ববিবেকের এই মৌনতা কি অপরাধ নয়?
যুদ্ধবিরতির আড়ালে এই রক্তস্নান প্রমাণ করে- গাজায় মৃত্যু এখন সস্তা। অপরদিকে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় সংগ্রাম। ফিলিস্তিনের প্রতিটি ধ্বংসস্তূপ আজ চিৎকার করে বলছে, “আমরা বাঁচতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পৃথিবী আমাদের কেবল মৃত্যু উপহার দিয়েছে।”
খান ইউনিসে পুলিশের গাড়িতে হামলা: ঝরলো ৮ প্রাণ
শুক্রবার দুপুরের দিকে খান ইউনিস এলাকায় একটি স্থানীয় সংঘর্ষ থামাতে পুলিশি হস্তক্ষেপের সময় আচমকা হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। একটি পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় তিনজন সাধারণ পথচারীসহ অন্তত ৮ জন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলার সময় এলাকাটিতে সাধারণ মানুষের আনাগোনা ছিল, যার ফলে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
বেইত লাহিয়া ও উত্তরাঞ্চলে বিভীষিকা
একই দিনে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকার একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পৃথক এক হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিরব ঘাতক: ত্রাণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর টার্গেট
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই বাহিনী মূলত বেসামরিক এলাকায় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজ করে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ,
বেসামরিক পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা ইসরাইলকে আরও বড় অপরাধ করতে উৎসাহিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীকে সরিয়ে দিয়ে গাজায় বিশৃঙ্খলা এবং লুটপাট সৃষ্টি করাই ইসরাইলি বাহিনীর মূল লক্ষ্য, যাতে কৃত্রিমভাবে তৈরি খাদ্য সংকটকে আরও ঘনীভূত করা যায়।
তথাকথিত যুদ্ধবিরতি ও লাশের মিছিল
Gaza ceasefire violations 2026- গত বছরের অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন সামান্যই। পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় প্রায় ১০০০ জন নিহত এবং ২৫০০ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৭২,৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭২ হাজারেরও বেশি।












