Pallabi child murder 2026: একটি ফুটফুটে স্বপ্নের নৃশংস অবসান, বাংলাদেশে ৮ বছরের অবুজ শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর কেটে টুকরো করলো পাষণ্ড ঘাতক
Pallabi child murder 2026- বাংলাদেশের রাজধানীর পল্লবীর বাতাসে এখন শুধু ভারী আর্তনাদ। যে বয়সে পুতুল খেলে ঘর সাজানোর কথা, যে বয়সে মায়ের কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর কথা, সেই ৮ বছরের নিষ্পাপ শিশু রামিসা আক্তারকে অকালে চলে যেতে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে। পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির এই ছোট্ট শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করেছে সোহেল রানা নামের এক নরপিশাচ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পৈশাচিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো বাংলাদেশ। নেটিজেনদের চোখে জল আর বুকে জমাট বেঁধেছে তীব্র ক্ষোভ। একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না কেউ (Pallabi child murder 2026)।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত সোহেল রানা নিজের মুখে তার এই জঘন্য অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। সে জানায়, ছোট্ট রামিসাকে ফুসলিয়ে ঘরে নিয়ে প্রথমে টয়লেটে আটকে ধর্ষণ করে। এরপর নিজের পাশবিকতা ঢাকতে ও প্রমাণ লোপাট করতে ঠান্ডা মাথায় শিশুটির গলা কেটে দেয় এবং শরীর কয়েক টুকরো করে ফেলে। মানুষের রূপ ধরে থাকা এই দানবের হাত একটুও কাঁপেনি একটি অবুঝ শিশুর বুকফাটা আর্তনাদে।
মঙ্গলবার সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে যখন রামিসার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তখন চারপাশের পরিবেশ কান্নায় ভেঙে পড়ে। এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় শিশুটির তীব্র চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন ছুটে আসছিল, ততক্ষণে সব শেষ। পাষণ্ড সোহেল দ্রুত রামিসার নিথর দেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলে। পরে ঘরের ভেতরের টয়লেটের বালতি থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা। একটি ফুটফুটে শিশুর এমন টুকরো টুকরো দেহ দেখে উপস্থিত কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
এই কলিজা ছেঁড়া ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্বপ্নাক আটক করে এবং আত্মগোপনে থাকা মূল হত্যাকারী সোহেল রানাকে সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আজ বুধবার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিনের সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে ঘাতক সোহেল। তবে ঘটনার সাথে জড়িত অজ্ঞাত অন্য আসামি এখনো পলাতক রয়েছে, তাকে খুঁজছে পুলিশ। আজ বুধবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ করে রামিসার নিথর ও রক্তাক্ত দেহটি তার অসহায় মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সন্তানকে শেষবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরে মা-বাবার সেই বুকফাটা হাহাকার আর আর্তনাদে হাসপাতালের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন একটাই দাবি—এই নির্মম, পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার হোক, যেন আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।












