Suvendu Adhikari PA Murder 7 May: ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর বদলা নিতেই খুন আমার পিএ! বারাসতে বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী
Suvendu Adhikari PA Murder 7 May- শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য – রাজনীতি। আজ মৃতের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা ছিল। এদিন বারাসত হাসপাতালে ময়নাতদন্ত চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরাসরি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন বিরোধী দলনেতা। স্পষ্ট ভাষায় শুভেন্দু দাবি করেন, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার খেসারত দিতে হলো এক তরুণ প্রাণকে। শুভেন্দুর কথায়, “আমি যদি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে না হারাতাম, তবে আজ চন্দ্রনাথকে আমাদের ছেড়ে চলে যেতে হতো না (Suvendu Adhikari PA Murder 7 May)।”
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রাম এলাকায় দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাতেই হাসপাতালে পৌঁছান বিরোধী দলনেতা। রাতভর হাসপাতালে থাকার পর সকালে ময়নাতদন্তের সময়ও তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন।
শুভেন্দুর দাবি অনুযায়ী, চন্দ্রনাথ কোনোদিন রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ছিলেন না, তাঁর কোনো অপরাধমূলক অতীতও নেই। শুধুমাত্র শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত অনুগামী এবং সহায়ক হওয়ার কারণেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ‘রেকি’ করে খুন করা হয়েছে।
রাজ্য রাজনীতির কারবারিদের মতে, এই খুনের ঘটনা আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাবে। শুভেন্দু অধিকারী এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন যে, এটি একটি ঠান্ডা মাথার রাজনৈতিক খুন। ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তসহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতেই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দোষীদের খুঁজে বের করে ফাঁসির কাষ্ঠে না ঝোলানো পর্যন্ত তিনি শান্ত হবেন না। যদিও বর্তমানে তিনি রাজ্য পুলিশের ওপর ভরসা রাখার কথা বলেছেন, তবে তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। শাসক দল আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। একইসাথে ভোট পরবর্তী হিংসায় প্রাণ হারানো তাদের দলীয় কর্মীদের খুনের বিচারের দাবিও পুনরায় সামনে আনা হয়েছে। শুভেন্দুর এই সরাসরি আক্রমণ এবং “ভবানীপুরের পরাজয়ের বদলা” তত্ত্ব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক কর্মীদের জীবনের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে উত্তর ২৪ পরগনার এই জনবহুল এলাকায়।












