The Silent Killer Of Bangladesh: জলের নীল দংশন
বাংলাদেশের শান্ত জল আজ (The Silent Killer Of Bangladesh) এক ঘাতক জলছবি। একদিকে এক মা সাংসারিক নানা কাজে ব্যস্ত থাকছে, অন্যদিকে ঠিক তখনই পুকুরের স্থির জল নিঃশব্দে কেড়ে নিলো তাঁর কলিজার টুকরো সন্তানদের। কথা হচ্ছে বাংলাদেশের। যেখানে প্রতিদিন গড়ে চারটি শিশুর এই সলিল সমাধি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, এ এক ‘নীরব মহামারিতে পরিণত হয়েছে। যে বয়সে ওদের কলকাকলিতে ঘর মুখর থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের নিথর দেহ ভেসে উঠছে পুকুর কিংবা বালতির জলে।পুকুর, ডোবা কিংবা ঘরের কোণের এক বালতি জলও আজ শিশুদের জন্য হয়ে উঠেছে এক অতল মৃত্যুফাঁদ। সম্প্রতি পবিত্র ঈদ উল ফিতরের মাত্র ১৪ দিনে ৫০ শিশুর জলেতে ডুবে প্রাণ হারানোর ঘটনা প্রমাণ করে যে, এই সংকট এখন একটি নীরব মহামারিতে পরিণত হয়েছে।
বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা, যারা বিপদ বুঝতে অক্ষম, তারাই এই ঘাতক জলের প্রধান শিকারে পরিণত হচ্ছে। দীর্ঘ ছুটির সময় যখন পরিবারগুলো উৎসবে মেতে ওঠে, ঠিক তখনই অসতর্ক মুহূর্তের সুযোগ নিয়ে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে হাজারো ‘আয়ান’ কিংবা ‘জাবিরে’র প্রাণ। (The Silent Killer Of Bangladesh) অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সকাল থেকে দুপুরের মাঝামাঝি সময়ে যখন মায়েরা গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখনই ঘটে যায় এই অপূরণীয় ক্ষতি।
পরিসংখ্যানের রূঢ় বাস্তবতা: ভয়াবহ ১৪ দিন: গত ১৪ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে ৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ৫০ শিশুর মধ্যে ২০ জনের বয়সই ছিল ৫ বছরের নিচে। এই বয়সের শিশুরা ঝুঁকি বুঝতে অক্ষম। গবেষণা বলছে, বছরের মোট শিশু মৃত্যুর ৩৫ শতাংশই ঘটে দীর্ঘ ছুটির সময়। নতুন পরিবেশে তদারকির অভাবে শিশুরা সহজেই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ২০২৫ সালের ঈদে ১২ দিনে ৪৯ জন এবং ২০২৪ সালের ঈদ উল ফিতরে ৫৮ জন শিশু একইভাবে প্রাণ হারায়।
সমাধানের পথ আইসিবিসি মডেল: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সচেতনতা দিয়ে এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন টেকসই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। ‘ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি বেইজড চাইল্ড কেয়ার (আইসিবিসি)’ প্রকল্পটি এ ক্ষেত্রে এক জাদুকরী সাফল্য দেখিয়েছে।
কেন এই মডেলটি জরুরি? ১) শূন্য মৃত্যুহার: এই প্রকল্পের আওতায় থাকা আড়াই লাখ শিশুর মধ্যে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার ছিল ০%। ২) নিরাপদ বেষ্টনী: মায়েরা যখন কাজে ব্যস্ত থাকেন, তখন শিশুরা চাইল্ড কেয়ার সেন্টারে নিরাপদ তদারকিতে থাকে। ৩) দক্ষতা বৃদ্ধি: শিশুদের বিজ্ঞানসম্মত সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
বর্তমানে ৮০০ কোটি টাকারও বেশি বাজেটে ৩০টি জেলায় এই প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এই প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। প্রতিটি শিশুর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের অন্যতম অঙ্গীকার হওয়া উচিত। সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন আর সরকারি উদ্যোগই পারে হাজারো মায়ের কোল খালি হওয়া বন্ধ করতে। সোর্স: আমার সংবাদ











