Today in History 1 may: ইতিহাসে আজকের এই দিনে: মে দিবস ও ১ মে’র উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি
Today in History 1 may- ইতিহাসের ধূলিকণা থেকে সময়ের স্রোতে ভেসে আসা প্রতিটি দিনই আমাদের জন্য বয়ে আনে বিস্ময়কর সব বার্তা। আজ শুক্রবার, ১ মে ২০২৬। ক্যালেন্ডারের পাতায় আজকের দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, বরং এটি কোটি কোটি শ্রমিকের ঘাম ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক। আজকের এই বিশেষ দিনে ইতিহাসের পাতায় ঘটে যাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, স্মরণীয় ব্যক্তিত্বদের জন্ম ও প্রয়াণের তথ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের বিশেষ আয়োজন (Today in History 1 may)।
ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি ঘটনা
১. আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা মে দিবসের সূচনা: ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে-মার্কেট চত্বরে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে বহু শ্রমিক হতাহত হন। এই আত্মত্যাগের স্মরণে ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী ১ মে আন্তর্জাতিক মে দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
২. পেনি ব্ল্যাক ডাকটিকিট ও আধুনিক যোগাযোগ: ১৮৪০ সালের এই দিনে যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো আঠাযুক্ত ডাকটিকিট ‘পেনি ব্ল্যাক’ চালু হয়। এটি বিশ্বের প্রথম সরকারি ডাকটিকিট, যা চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে।
৩. স্বামী বিবেকানন্দ কর্তৃক রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা: ১৮৯৭ সালের ১ মে আধ্যাত্মিক গুরু স্বামী বিবেকানন্দ মানবসেবা ও ত্যাগের আদর্শ নিয়ে কলকাতায় রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
৪. এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের উদ্বোধন: ১৯৩১ সালে নিউ ইয়র্ক সিটিতে তৎকালীন বিশ্বের উচ্চতম ভবন ‘এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং’-এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এটি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে।
৫. পোলিও টিকার যাত্রা শুরু: ১৯৫৬ সালের এই দিনে জোনাস সল্ক উদ্ভাবিত পোলিও টীকা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ফলে বিশ্বজুড়ে পোলিও নির্মূলের পথে এক বিশাল ধাপ সম্পন্ন হয়।
জন্মতিথিতে স্মরণীয় ৫ ব্যক্তিত্ব
১. মান্না দে: ১৯১৯ সালের এই দিনে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার মান্না দে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে ক্লাসিক্যাল থেকে আধুনিক—সব ধরনের গানই শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে।
২. সান্তিয়াগো রামোন ই কাহাল: ১৮৫২ সালে জন্ম নেওয়া এই স্পেনীয় স্নায়ুবিদ আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত। ১৯০৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয়ী এই বিজ্ঞানীর অবদান চিকিৎসাজগতে অনস্বীকার্য।
৩. সরদার ফজলুল করিম: ১৯২৫ সালে বাংলাদেশের অন্যতম বিশিষ্ট দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও লেখক সরদার ফজলুল করিম জন্মগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনের জটিল বিষয়গুলোকে সহজ বাংলায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনন্য।
৪. জোহান জ্যাকব বামার: ১৮২৫ সালে জন্ম নেওয়া এই সুইস গণিতবিদ ও পদার্থবিদ বর্ণালীবীক্ষণ বা স্পেকট্রোস্কোপি নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত। তাঁর সূত্রগুলো পরমাণু বিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপনে সহায়তা করেছিল।
৫. শাহরিয়ার নাফীস: বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল বাঁহাতি ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস ১৯৮৬ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর বহু স্মরণীয় ইনিংস আজও ভক্তদের মনে অম্লান।
প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি: ৫ জন ব্যক্তিত্ব
১. জোসেফ গোয়েবলস: ১৯৪৫ সালে এই দিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির কুখ্যাত প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলস আত্মহত্যা করেন। হিটলারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই ব্যক্তি প্রচার ও প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে এক ভয়াবহ অধ্যায় তৈরি করেছিলেন।
২. ডেভিড লিভিংস্টোন: ১৮৭৩ সালে পরলোকগমন করেন বিশ্বখ্যাত স্কটিশ মিশনারি ও পর্যটক ডেভিড লিভিংস্টোন। আফ্রিকা মহাদেশের মানচিত্র তৈরি এবং নীল নদের উৎস সন্ধানে তাঁর সাহসী অভিযাত্রা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।
৩. এয়ারটন সেনা: ১৯৯৪ সালের এই দিনে ফর্মুলা ওয়ান রেসিংয়ের সম্রাট এয়ারটন সেনা ইমোলা গ্র্যান্ড প্রিক্সে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত হন। তিনবারের এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মৃত্যু ক্রীড়াঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল।
৪. শামসুদ্দিন আলতামাশ: ১২৩৫ সালে দিল্লির বিখ্যাত মামলুক সুলতান শামসুদ্দিন আলতামাশ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দিল্লির সুলতানি শাসনকে শক্তিশালী ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং কুতুব মিনারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছিলেন।
৫. অমিতাভ চৌধুরী: ২০১৫ সালে বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক ও সাংবাদিক অমিতাভ চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর লেখনী ও সাংবাদিকতা বাংলা সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
ইতিহাসের পাতায় ১ মে তারিখটি যেমন অধিকার আদায়ের রক্তঝরা সংগ্রামের কথা বলে, তেমনি এটি বিজ্ঞান, শিল্প এবং মানবিক অর্জনেরও সাক্ষী। অতীতের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো আমাদের ভবিষ্যতের পথ চলতে প্রেরণা জোগায়।












