West Bengal Post-Poll Violence 6 May: নির্বাচন পরবর্তী রক্তক্ষয়ী হিংসায় জ্বলছে পশ্চিমবঙ্গ, জেলায় জেলায় খুন ও ভাঙচুর
West Bengal Post-Poll Violence 6 May- রক্তক্ষয়ী সংঘাত আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ছে পশ্চিমবঙ্গ। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই আছড়ে পড়েছে অশান্তির ঢেউ। কোথাও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, কোথাও অগ্নিসংযোগ, আবার কোথাও রাজনৈতিক কর্মীদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে করে তুলেছে অগ্নিগর্ভ। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি, উভয় শিবিরের বিরুদ্ধেই পাল্টাপাল্টি হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে (West Bengal Post-Poll Violence 6 May)।
বীরভূমের নানুরে তৃণমূল কর্মী আবির শেখের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে। অন্যদিকে, হাওড়ার উদয়নপুরে বিজেপি সমর্থক যাদব বরের মৃত্যু ঘিরেও একইরকম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর পরিবারের দাবি, তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে অপহরণ করে মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করেছে। দুই জেলাতেই পুলিশি টহল বাড়ানো হলেও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও কুলতলি এলাকায় ক্রমাগত সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। চম্পাহাটিতে পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাও থেকে শুরু করে ফুলতলায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কুলতলিতে বাড়ি ফেরার পথে বিজেপি কর্মীদের ওপর রড ও লাঠি নিয়ে হামলার ঘটনা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে। বাদ যায়নি উত্তরবঙ্গও; শিলিগুড়িতে মেয়র গৌতম দেবের ওয়ার্ডে তৃণমূল কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে।
নদিয়া ও বাঁকুড়ার চিত্রও সমান ভয়াবহ। কৃষ্ণনগরের বাদকুল্লায় তৃণমূলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও দখলের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল। বাঁকুড়ার পাঁচবাগা ও গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও তৃণমূলের কার্যালয় দখল এবং ছাত্র সংসদের ঘরে এবিভিপি-র দাপট রাজনৈতিক মেরুকরণকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচন-পরবর্তী এই হিংসার আবহ পশ্চিমবঙ্গকে আবারও এক অশান্ত অধ্যায়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।












