‘Hok Kolorob’ সিনেমা নিয়ে আপত্তি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের

শো-বিজ - প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, মধ্যরাত ১২:২১
hok kolorob et00479732 1768976803

রাজ চক্রবর্তীর ‘Hok Kolorob‘ সিনেমা নিয়ে আপত্তি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। ঘটনার সূত্রপাত, ২০১৪ সালে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উপরে পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতার রাজপথ। তারপরেই জন্ম নিল ‘হোক কলরব’ এক আইকনিক স্লোগানের। সেই স্লোগানকে ব্যবহার করেই পরিচালক ও তৃণমূল বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী সম্প্রতি একটি সিনেমা বানিয়েছেন। যা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা মহলে। ছাত্র, শিক্ষক, প্রাক্তনী এমনকী কর্তৃপক্ষও মনে করছেন, তৃণমূল বিধায়ক ও পরিচালকের সিনেমাতে এমন কিছু দৃশ্য রয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানহানি করেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিমধ্যে রাজকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন বিশ্ব বিদ্যালয়ের এক প্রাক্তনী। অভিযোগ দায়ের হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও।

ICC rejects accreditation: বাংলাদেশি সাংবাদিকদের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল আইসিসির

 

পরিচালকের দাবি, Hok Kolorob ছবিতে এমন কিছুই নেই যা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে। রাজ্যের ভাষ্যে, ‘বহু মানুষ সিনেমাটি দেখেছেন। তাঁদের ভালো লেগেছে। আপত্তিকর কিছুই মনে হয়নি।

তবে উক্ত সিনেমাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যও ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। এদিন সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন,  ‘আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয় আইনি কোনও পদক্ষেপ করতে পারে কি না তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। বলা বাহুল্য, হোক কলরব স্লোগানটির জন্ম ও বিকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত। যদিও ওই ছবিতে সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও নাম নেই। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘যদুপুর বিশ্ববিদ্যালয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘হোক কলরব’ ছবিটির নাম হলেও ট্রেলার দেখে অনেকেরই মতামত, তার গল্প আদতে ২০২৩–এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে হওয়া র‍্যাগিং ও যৌন হেনস্থার জেরে খুন হওয়া ছাত্রের ঘটনাকে ঘিরে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ উত্তাল হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। তখন মেন হস্টেলের একদল ছাত্র এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসি বা কর্মসমিতি ঘেরাও করেন। তাঁদের অনেকের দাবি ছিল, শ্লীলতাহানির ঘটনায় কারোর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। সেই আন্দোলন রাত পর্যন্ত গড়ায়। পরে ক্যাম্পাসে পুলিশ ঢোকে। আলো নিভিয়ে লাঠি চার্জ করা হয়। এরপর থেকেই ‘হোক কলরব’ আন্দোলনের সূচনা। শুধু তাই নয়, তৎকালীন ভিসি অভিজিৎ চক্রবর্তীর পদত্যাগের দাবিতে প্রায় এক বছর ধরে এই ছাত্র আন্দোলন জারি থাকে। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্যাম্পাসে গিয়ে সেই ভিসিকে পদত্যাগ করতে বলেন।  তারপর আন্দোলনের তীব্রতা কমে আসে। এই আন্দোলনকে যাদবপুরের বিভিন্ন মহল অবশ্য ‘সফল’ বলেই ব্যাখ্যা করেন।

Scroll to Top