Jeetu Kamal 2026: ডিভোর্সের আড়াই বছর পর মাঝরাতে একফ্রেমে জীতু-নবনীতা! নেপথ্যে কি সায়নী ঘোষের বিস্ফোরক দাবি?
"মহাদেবের লিঙ্গে কন্ডোম পরিয়ে খিল্লি করেছিলেন!" সায়নীকে তীব্র আক্রমণ জীতুর, নিশানা করলেন মমতাকেও
Jeetu Kamal 2026- টলিউডের অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়ি এবং রাজনৈতিক তরজার মাঝে এক নাটকীয় মোড় নিল জীতু কমল ও নবনীতা দাসের সম্পর্ক। ২০২৪ সালের সেই বহুল চর্চিত বিচ্ছেদের পর, ২০২৬ সালের ১৬ মে, শুক্রবার গভীর রাতে ফের একফ্রেমে ধরা দিলেন এই প্রাক্তন তারকা দম্পতি। আইসক্রিম হাতে পরস্পরের সঙ্গে খুনসুঁটিতে মাতলেন তাঁরা। তবে এই আকস্মিক পুনর্মিলনের নেপথ্যে অনুরাগী মহলের নস্ট্যালজিয়ার চেয়েও বেশি কাজ করেছে যাদবপুরের তারকা সাংসদ তথা অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের একটি বিস্ফোরক অভিযোগ (Jeetu Kamal 2026) ।
বিতর্কের সূত্রপাত , সায়নী ঘোষের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ভার্চুয়াল বাকবিতণ্ডার মাঝে সায়নী দাবি করেন, বিরাটির ঘটনার পর জীতুর প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন— সম্ভবত জীতুর কোনো ‘কুকর্ম’ ফাঁস করার জন্য। সায়নী স্পষ্ট জানান, ব্যস্ততার কারণে তখন ফোন না তুললেও এখন মনে হচ্ছে ফোনটা তুললেই ভালো হতো। এই ‘কুকর্ম সংক্রান্ত’ মারাত্মক অভিযোগের পরই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন জীতু কমল। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে বিচ্ছেদের আড়াই বছর পর শুক্রবার রাত ২টোয় প্রাক্তন স্ত্রীকে পাশে নিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন অভিনেতা।
লাইভের জন্য জীতু বেছে নিয়েছিলেন সেই কেন্দুয়া শান্তি সংঘের মণ্ডপ, যেখানে সায়নীর মুখের আদলে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হয়েছিল। সায়নীকে তীব্র আক্রমণ করে জীতু জানান, বাঙালি রাজনীতিবিদদের ডিভোর্স নিয়ে কাদা ছেটানোর নোংরা ট্রেন্ডের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁরা সমাজকে দেখিয়ে দেবেন যে বিচ্ছেদের পরেও আজীবন ভালো বন্ধু থাকা যায়। পাশে থাকা নবনীতাও সায়নীর প্রভাব খাটানোর রাজনীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, এই পুজো সার্বজনীন, কারও একার নয়।
২০১৯ সালে সাতপাকে বাঁধা পড়ার পর, জীতুর ‘অপরাজিত’ ছবির সাফল্যের পর থেকেই এই দম্পতির সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয় এবং ২০২৪ সালে আইনি বিচ্ছেদ ঘটে। আড়াই বছর পর সায়নী ঘোষের আনা অভিযোগ খণ্ডন করতেই কি না জীতু-নবনীতা এক হলেন, তা নিয়ে নেটপাড়ায় চর্চা তুঙ্গে। তবে কারণ যা-ই হোক, ‘ভিলেন’ সায়নীর সৌজন্যেই হোক বা বন্ধুত্বের টানে, প্রিয় তারকা জুটিকে আবার একসঙ্গে হাসিমুখে দেখে ভাঙা সংসার জোড়া লাগার স্বপ্ন বুনছেন অনুরাগীরা।
উল্লেখ্য যে,দিন কয়েক ধরেই ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে ক্ষমতা প্রদর্শন এবং ‘তৃণমূল ঘেঁষা’ ফোরামের একাধিপত্য নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন জীতু। এমনকি সিনেইন্ডাস্ট্রির অগ্রজ অভিনেতাদের বিরুদ্ধেও বিষোদগার করতে পিছপা হননি তিনি। জীতুর এই লাগাতার আক্রমণাত্মক মনোভাবেরই এবার পাল্টা জবাব দিলেন সায়নী।
শুক্রবার রাতে জীতুকে অতীত মনে করিয়ে দিয়ে চূড়ান্ত আক্রমণ শানান সায়নী ঘোষ। অভিনেতাকে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘টলিউডের কঙ্গনা রানাওয়াত। নিজেকে সত্যজিৎ রায় ভাবাটা বন্ধ করুন!’ নেত্রী তথা সহ-অভিনেত্রীর এই ‘কঙ্গনা’ এবং ‘সত্যজিৎ রায়’ খোঁচার জবাবে পাল্টা মাঠ কাঁপাতে নামেন জীতুও। রাজনৈতিক মতাদর্শ টেনে সায়নীকে আক্রমণ করার পাশাপাশি তাঁর অতীতের বিতর্কিত ‘কন্ডোম কাণ্ডে’র কথা মনে করিয়ে দিয়ে পাল্টা জবাব দেন অভিনেতা।
তিনি বলেন, আপনি আমার মহাদেবের লিঙ্গে কন্ডোম পরিয়ে খিল্লি করেছিলেন। আর আজ বলছেন আমি সুবিধাবাদী? আচ্ছা, কোন সুবিধাটা আমি আপনার থেকে নিয়েছি? কিছু তৃণমূলের পেটোয়া টেকনিশিয়ানস বলছে আমি বাজে ব্যবহার করি?” বিরাটির ঘটনা নিয়ে সায়নীর দাবির অসারতা প্রমাণ করতে গিয়ে জীতু এক মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, যখন বিরাটিতে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছিল, তখন তাঁরা সায়নীকে ফোন করেননি। উলটে সায়নীই একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, যাতে প্রচ্ছন্ন হুমকি ছিল। জীতুর কথায়, “পরিষ্কার একটা থ্রেট ছিল— এই ঘটনাটিকে সাধারণ ঘটনা হিসেবেই ট্রিট করো, নইলে বিপদে পড়বে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আসলে মিথ্যে বলতে বলতে এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন যে, মানুষ আপনাকে আর বিশ্বাস করে না। আপনার সুন্দর গানের কন্ঠ, সুন্দর বক্তব্য, ইংরাজিটা দারুণ, যদিও এক্ষেত্রে আমি আর আপনার নেত্রী একই তিমিরে দাড়িয়ে, দুজনেই খুব একটা ইংরেজি বুঝি না।” সায়নীকে বিঁধতে গিয়ে এভাবেই পরোক্ষভাবে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এক হাত নেন জীতু।
সায়নীর দাবির পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিনেতা বলেন, “মুখে বুলি আওড়ানোর মানুষ তো আমি নই। ‘হ্যান কারেঙ্গে ত্যান কারেঙ্গে’— এগুলো ১৫ বছর ধরে কে বা কারা বলে এসছে? একটু ভালো করে ভাবুন তো।” সায়নী দাবি করেছিলেন যে সেই রাতে পুলিশ জীতুদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল, সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে সাংসদ সায়নীকে জীতুর সরাসরি চ্যালেঞ্জ— “সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, আপনি তো সাংসদ, বের করুন সেই প্রমাণ। পারবেন তো?”












