Jesus statue desecration Lebanon: লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

আন্তর্জাতিক - প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১১:১৯

Israeli Soldier Smashes Jesus Statue: লেবানন যুদ্ধে এবার ধর্মীয় অবমাননা! যিশুর মূর্তি ভাঙার কথা স্বীকার করল ইসরাইলি সেনা

Jesus statue desecration Lebanon: লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়
ভাইরাল ছবি: দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করছেন এক ইসরাইলি সেনা। (সংগৃহীত)

Jesus statue desecration Lebanon– দক্ষিণ লেবাননে ধর্মীয় অবমাননার এক নজিরবিহীন ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে South Lebanon ground operation আন্তর্জাতিক মহলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা গেছে, এক ইসরাইলি সেনা (Israeli Defense Forces (IDF) হাতুড়ি দিয়ে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙচুর করছেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে। খোদ ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (IDF) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: হাতুড়ি দিয়ে যিশুর মূর্তি গুঁড়িয়ে দিল সেনা

বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। অভিযানের মধ্যেই লেবাননের দেব্ল (Debel) গ্রামের উপকণ্ঠে যিশুর একটি মূর্তির ওপর হামলা চালায় এক সেনা সদস্য। ভাইরাল হওয়া সেই ছবিতে দেখা যায়, সামরিক পোশাকে সজ্জিত ওই ব্যক্তি বড় হাতুড়ি দিয়ে অত্যন্ত আক্রোশে মূর্তিটিতে আঘাত করছেন (Jesus statue desecration Lebanon)।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর স্বীকারোক্তি

সোমবার (২০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইসরাইল সেনাবাহিনী জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ছবিটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদেরই একজন সদস্য। এই ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

কড়া প্রতিক্রিয়া: ‘যিশুর থেকেও কি হুমকি বোধ করছিল সেনা?’

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সরব হয়েছেন ইসরাইলি পার্লামেন্টের (Knesset) ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সদস্যরা। এই প্রেক্ষিতে আয়মান ওদেহ উপহাস করে বলেন, “আমি এখন পুলিশের সেই বিবৃতির অপেক্ষায় আছি, যেখানে দাবি করা হবে যে ওই সেনা যিশুর মূর্তির কাছ থেকে ‘হুমকি’ অনুভব করেছিলেন (Desecration of religious symbols), তাই আত্মরক্ষায় এটি করেছেন। একইভাবে আহমদ তিবি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যারা গাজায় মসজিদ-গির্জা ধ্বংস করছে এবং জেরুসালেমে খ্রিস্টানদের গায়ে থুতু ছিটিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছে, তাদের কাছে যিশুর মূর্তি ভাঙা তো ডালভাত।”

পরিসংখ্যানের ভয়ংকর চিত্র

অধিকারকর্মীদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রিলিজিয়াস ফ্রিডম ডাটা সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী
পশ্চিম তীরে গত এক বছরে বসতি স্থাপনকারীরা অন্তত ৪৫টি মসজিদে হামলা চালিয়েছে। একইভাবে
জেরুসালেমে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খ্রিস্টানদের ওপর অন্তত ২০১টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উপাসনালয়ে ভাঙচুর, যাজকদের হেনস্তা এবং ধর্মীয় মিছিলে বাধা প্রদান।

আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী নীতির কড়া সমালোচনা করছেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, গাজা বা লেবাননে যখন ধর্মীয় প্রতীক বা উপাসনালয় ধ্বংস করা হয়, তখন আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা এই ধরণের বর্ণবাদী আচরণকে আরও উৎসাহিত করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের আবহে ধর্মীয় নিদর্শনের ওপর এই পরিকল্পিত হামলা কেবল দুটি দেশের সংঘাত নয়, বরং এটি গভীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। দক্ষিণ লেবাননের দেব্ল গ্রামের এই ঘটনা এখন মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র: বিবিসি 

Scroll to Top