Karnataka CM Resignation 2026: কর্ণাটকের মসনদে এবার শিবকুমার! মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে রাজ্যসভার প্রস্তাবও হেলায় ফেরালেন সিদ্দারামাইয়া
হাই কমান্ডের নির্দেশে ইস্তফা, রাজ্যের মানুষের পাশেই থাকার বার্তা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর
Karnataka CM Resignation 2026- জল্পনার অবসান। বৃহস্পতিবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দিলেন সিদ্দারামাইয়া [Siddaramaiah Resignation]। স্থলাভিসিক্ত হলেন ডিকে শিবকুমার [DK Shivakumar]। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই ঐতিহাসিক রদবদলের কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয়, কংগ্রেস হাই কমান্ডের তরফে দেওয়া রাজ্যসভার প্রস্তাবও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক [Karnataka Politics]।
এদিন সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতঃরাশ বৈঠকে বসেন সিদ্দারামাইয়া। সেই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিবকুমারও। ওই বৈঠকেই বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা নিজের পদত্যাগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন (Karnataka CM Resignation 2026)। পাশাপাশি, নিজের যোগ্য উত্তরসূরি হিসাবে শিবকুমারের নামও অনুমোদন করেন [Congress High Command]। বৈঠক শেষে আবেগঘন আবহে সিদ্দারামাইয়ার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন শিবকুমার। এরপরই লোকভবনে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন সিদ্দা। যদিও সেই সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট। ফলে রাজ্যপালের সচিবের হাতেই পদত্যাগপত্র তুলে দেন তিনি [Resignation Letter]।
ইস্তফা দেওয়ার পর এদিন বেলা তিনটে নাগাদ একটি বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক করেন সিদ্দারামাইয়া [Siddaramaiah Press Conference]। সেখানে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে জানান, দুদিন আগে হাই কমান্ড তাঁকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেয় এবং সেই নির্দেশ মেনেই বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। দু’দফায় কর্ণাটকের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। কথা বলতে বলতে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই প্রবীণ নেতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যে গ্যারান্টি প্রকল্পগুলির কারণে কর্ণাটকে কোনও আর্থিক ঘাটতি নেই এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে [Guarantee Schemes]। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান যে, তিনি কোনওদিন টাকার পিছনে ছোটেননি বা ক্ষমতার লালসা করেননি। বিরোধী দলের মিথ্যা অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে তিনি বলেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি বড় অংশই তাঁরা সফলভাবে পূরণ করেছেন।
বুধবার সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, শিবকুমারকে কর্ণাটকের কুরসিতে বসালেও সিদ্দারামাইয়াকে হতাশ করতে নারাজ কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁকে রাজ্যসভায় আসার সম্মানজনক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, আগামী দিনে তাঁকে কেন্দ্রীয় স্তরে বড় দায়িত্ব দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে খবর ছিল [Rajya Sabha Offer]। বৃহস্পতিবার সেকথা নিজে মুখেই স্বীকার করেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। কিন্তু অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানিয়ে দেন, রাজ্যসভায় যাওয়ার সেই প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, জাতীয় রাজনীতিতে যাওয়ার তাঁর বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই। তিনি নিজের রাজ্যেই থাকতে চান। জনগণ তাঁকে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছেন এবং এখনও ২ বছর মেয়াদ বাকি আছে। তাই কর্ণাটকের মানুষের জন্যই নিজের বাকি রাজনৈতিক জীবন তিনি উৎসর্গ করবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন [State Politics]।












