Mohammedan Sporting Club 23 May: স্পনসর সংকটে ধুঁকছে মহামেডান, ত্রাতা হিসেবে নওশাদ- হুমায়ূনের দ্বারস্থ সাদা-কালো ব্রিগেড
Mohammedan Sporting Club 23 May- ইনভেস্টর বা বিনিয়োগকারী সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘ সময় ধরেই জর্জরিত ঐতিহ্যবাহী মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব (Mohammedan Sporting Club)। আই লিগের আঙিনায় স্পনসরদের গড়িমসি পেরিয়ে আইএসএল-এর (Indian Super League) মঞ্চে পা রাখলেও ক্লাবের আর্থিক পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। রাজ্যের বিগত সরকারের আমলে বারবার প্রশাসনিক দ্বারে ঘুরেও আশানুরূপ সমাধান মেলেনি। এই চরম সংকটের মুহূর্তে এবার সাদা-কালো শিবিরের কর্তারা রাজ্যের দুই সংখ্যালঘু বিধায়ক তথা দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui) এবং Humayun Kabir,- এর শরণাপন্ন হয়েছেন (Mohammedan Sporting Club 23 May)।
১৩ কোটির ঋণের বোঝা ও চরম আর্থিক সংকট
গত দুই মরশুম ধরে আইএসএল খেললেও মহামেডানের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। ক্লাবের মাথায় বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি টাকার দেনা জমেছে। আগামী মরশুমের জন্য নতুন দল গঠন এবং ক্লাব পরিচালনার জন্য মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন, কিন্তু হাতে নেই কোনো স্থায়ী স্পনসর (Sponsor)। ক্লাবের এই নাজুক পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস আগে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (ISF) প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী সরব হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, মহামেডানের ক্ষেত্রে সেই দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়নি। সে সময় নওশাদ নিজেই দাবি করেছিলেন, ক্লাব চাইলে তিনি স্পনসর জোগাড় করে দিতে সক্ষম। এছাড়া আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান কবিরও ব্যক্তিগতভাবে ক্লাবের সমস্যা মেটাতে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
কর্তাদের আনুষ্ঠানিক চিঠি ও বিনিয়োগের আহ্বান
ক্লাবের এই কঠিন সময়ে নওশাদ সিদ্দিকী ও হুমায়ূন কবিরও সেই আগ্রহকে কাজে লাগাতে চাইছেন মহামেডান কর্তারা। ক্লাবের পক্ষ থেকে নওশাদ এবং হুমায়ূনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাবের সংকটকালে তাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তার কথা ক্লাব জানতে পেরেছে। তাই বিনিয়োগকারী (Investor) সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি এবং বৃহত্তর পরিকল্পনা কী, তা জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। নওশাদ সিদ্দিকীকে লেখা চিঠিতে ক্লাবের উন্নয়নের জন্য তার কোনো প্রতিনিধি নিয়োগের প্রস্তাবের বিষয়েও আলোচনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হুমায়ূন কবিরকে সরাসরি ক্লাব প্রশাসনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে দ্রুত বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা
শুধুমাত্র নওশাদ বা হুমায়ূন নয়, বাঙ্কারহিল কর্তা দীপক সিংকেও (Deepak Singh) চিঠি দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে এখানেই থামতে নারাজ মহামেডান। বর্তমান পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয় এবং স্পনসর সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না মেলে, তবে আগামী দিনে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সাদা-কালো ব্রিগেডের। সব মিলিয়ে আর্থিক দৈন্য দশা কাটাতে মরিয়া ক্লাব ম্যানেজমেন্ট এখন রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ওপরই ভরসা রাখছে, যাতে ঐতিহ্যের ক্লাবটিকে এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।












