Mount Arafat Hajj 2026: লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফার ময়দান: ১৫ লাখ হাজির পদচারণায় পালিত হচ্ছে পবিত্র হজ

মুসলিম বিশ্ব - প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, দুপুর ১২:২৭

জাবালে রহমতে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিশ্ব মুসলিমের ক্ষমা প্রার্থনা, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার পথে যাত্রা

Arafat

​Mount Arafat Hajj 2026- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে এখন প্রকম্পিত সউদি আরবের ঐতিহাসিক আরাফার ময়দান [Arafat Day]। হজের [Holy Hajj] সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও পবিত্র এই দিনে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান আজ মঙ্গলবার শুভ্র সাদা ইহরাম [Ihram Clothing] বেঁধে সমবেত হয়েছেন এই পুণ্যভূমিতে। এটি নিছক কোনো সমাবেশ নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় জনসমাগম [Religious Gathering], যেখানে অভিন্ন লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শামিল হয়েছেন সব জাতি ও বর্ণের মানুষ (Mount Arafat Hajj 2026)।

​সউদি কর্তৃপক্ষের [Saudi Authority] নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় হাজিরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আরাফার ময়দানে পৌঁছান। বিশাল এই ভিড় [Crowd Management] সামলাতে এবং হাজিদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই নিবিড় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল দেশটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

​ভোর থেকেই হাজিদের বিশাল কাফেলা জাবালে রহমত [Jabal al-Rahmah] বা দয়ার পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর দরবারে অবারিত ক্ষমা ও রহমত কামনায় দুহাত তুলে কান্নায় ভেঙে পড়েন সমবেত মুসল্লিরা। এক গভীর আধ্যাত্মিক [Spiritual Atmosphere] ও ভাবগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি হয় পুরো এলাকা জুড়ে।

​ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, এই জাবালে রহমত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি স্থান [Historical Site]। আজ থেকে ১৪০০ বছরেরও বেশি সময় আগে বিদায় হজের [Farewell Pilgrimage] সময় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ঠিক এখানেই তাঁর সেই যুগান্তকারী ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন। বর্তমানে এটি হজের সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শন এবং আরাফাত দিবসের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ইসলামি শরিয়ত [Islamic Law] মোতাবেক, ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান রোকন, এখানে অবস্থান ছাড়া হজ কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ হয় না।

​মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম [Masjid al-Haram] থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই আরাফাত ময়দান বছরের বাকিটা সময় একেবারে জনশূন্য থাকলেও হজের দিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য এটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পাহাড়বেষ্টিত এই প্রান্তরটি তখন রূপ নেয় গোটা মুসলিম বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে [Muslim World]।

​সউদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় [Ministry of Health] জানিয়েছে, হাজিদের নিরবচ্ছিন্ন সেবায় পুরো আরাফাত এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জরুরি সেবা ইউনিটগুলো পুরোদমে সচল রয়েছে। মাউন্ট আরাফাত হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনগুলোকে [Emergency Medical Services] সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

​পাশাপাশি সিভিল ডিফেন্সের [Civil Defense] বিশেষ উদ্ধারকারী দলগুলো পাহাড়ের দুর্গম ও সুউচ্চ স্থানে সতর্ক পাহারায় মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় তারা অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

​এদিকে পৌরসভা ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এ বছরের হজ মৌসুম [Hajj Season] উপলক্ষ্যে পবিত্র স্থানগুলোতে নিবিড় আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাজিদের যাতায়াতের পথগুলো শতভাগ সুগম করতে প্রায় ৫ হাজার টাওয়ার ও পোলে ২০ হাজারেরও বেশি আধুনিক লাইট স্থাপন করা হয়েছে। মক্কা ও এর আশপাশের এলাকায় প্রায় ২ লাখ লাইটিং ইউনিটের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে যাতে রাতভর নিরবচ্ছিন্ন সেবা অব্যাহত থাকে।

​বিশাল এই কর্মযজ্ঞ ও জনসমুদ্রের পর সূর্যাস্তের পরপরই যখন হাজিরা মুজদালিফার [Muzdalifah] উদ্দেশ্যে রওনা হবেন, তখন আবারও আপন চিরচেনা রূপে ফিরবে ঐতিহাসিক আরাফাত। লাখো মানুষের কোলাহল থামিয়ে জনশূন্য এই প্রান্তর ফের নিস্তব্ধ হয়ে যাবে আগামী হজের প্রতীক্ষায়। (সূত্র : গালফ নিউজ)

Scroll to Top