Thaksin Shinawatra 11 May: থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়: মুক্তি পেলেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা, থাকছেন কড়া নজরদারিতে

আন্তর্জাতিক - প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, দুপুর ১২:৪০
2026 05 11T012756Z 136460277 RC2N6LA0STXG RTRMADP 3 THAILAND POLITICS 1778470492

Thaksin Shinawatra 11 May- দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় নির্বাসন এবং আইনি টানাপোড়েনের অবশেষে কারামুক্ত হলেন থাইল্যান্ডের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী চরিত্র থাকসিন সিনাওয়াত্রা। সোমবার সকালে ব্যাংককের ক্লোং প্রেম কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত এই নেতার মুক্তি থাই রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সংকেত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে (Thaksin Shinawatra 11 May)।

কারাগার থেকে মুক্তি ও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি

কারাগার থেকে বের হলেও ৭৬ বছর বয়সী থাকসিন সিনাওয়াত্রা পুরোপুরি স্বাধীন না। তাকে সার্বক্ষণিক সরকারি নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে তার পায়ের গোড়ালিতে একটি বিশেষ ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরানো হয়েছে। মুক্তি পাওয়ার সময় কারা ফটকে তাকে বরণ করে নেন তার কন্যা ও বর্তমান থাই রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ব্যক্তিত্ব পায়তংতান সিনাওয়াত্রা। এছাড়া পিউ থাই পার্টির অগুনতি নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের প্রিয় নেতাকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানান।

ক্ষমতার মসনদ থেকে রাজবন্দির তকমা

থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে যেমন একদল নিবেদিতপ্রাণ জনসমর্থক তৈরি হয়েছিল, তেমনি দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বিরোধীদেরও তীব্র রোশানলে পড়তে হয় তাকে। ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলে তিনি গ্রেফতারি এড়াতে দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে যান। নির্বাসিত জীবন কাটালেও বিদেশের মাটিতে বসে তিনি তার দল পিউ থাই পার্টির কলকাঠি নেড়েছেন এবং দেশের রাজনীতিতে নিজের প্রভাব বিন্দুমাত্র কমতে দেননি।

নির্বাসন শেষে প্রত্যাবর্তন এবং সমঝোতার রাজনীতি

দীর্ঘ ১৫ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যখন তিনি দেশে ফেরেন, তখন বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের পূর্ব ঘোষিত রায় অনুযায়ী এক বছরের কারাদণ্ড কার্যকর করতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে এক বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মাত্র আট মাসের মাথায় তিনি শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী এবং প্রভাবশালী পক্ষগুলোর সাথে এক বড় ধরনের রাজনৈতিক দর-কষাকষির ফলেই এই নাটকীয় মুক্তি সম্ভব হয়েছে।

থাকসিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও থাইল্যান্ডের পরিস্থিতি

নিজের চেষ্টায় বিলিওনিয়ার হওয়া থাকসিন সিনাওয়াত্রা তার আপসহীন এবং কাউকে তোয়াক্কা না করার মেজাজের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও এটা নিশ্চিত যে পর্দার আড়াল থেকে তিনি থাই রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তার মুক্তির ফলে থাইল্যান্ডের বিদ্যমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Scroll to Top