TMC final phase campaigning 2026: শেষবেলার প্রচারে রাজপথে সেলিব্রিটি সুনামি: দেব-শুভশ্রীর গ্ল্যামারে বিরামহীন জনজোয়ার
West Bengal Assembly Election 2026: তপ্ত পিচে গ্ল্যামারের ছটা: রাজপথ যখন চলন্ত মঞ্চ, জনপ্লাবনে থমকাল ভোট-প্রচার
TMC final phase campaigning 2026- পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা আখেরী দফার শেষলগ্নের প্রচারের যেন এক মায়াবী রূপ নিল। তপ্ত দুপুরের উত্তাপ ছাপিয়ে রাজপথে আছড়ে পড়ল তারকার দ্যুতি। যা নিমেষেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের আঙিনাকে বদলে দিল এক চলন্ত গ্ল্যামার মঞ্চে। উত্তর ২৪ পরগনার তিন বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে নামা দেব এবং শুভশ্রী গাঙ্গুলির উপস্থিতি কেবল ভিড় বাড়াল না, বরং সাধারণ মানুষের আবেগকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিল। পলতা থেকে বনহুগলি আর লালকুঠি থেকে মাধব নিবাস- প্রতিটা মোড়েই জনপ্লাবন বুঝিয়ে দিল যে রাজনীতির তত্ত্বে যখন রূপোলি পর্দার আকর্ষণ মিশে যায়, তখন গতির নিয়ম বদলে গিয়ে তৈরি হয় এক রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত।
নোয়াপাড়ার শান্তিনগর মাঠ থেকে যখন দেবের হুডখোলা গাড়ি এগোতে শুরু করল, তখন থেকেই ভিড়ের চাপে বারবার স্তব্ধ হয়ে পড়ে রাজপথ (TMC final phase campaigning 2026)। শান্তিনগর থেকে কুণ্ডুবাড়ি মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুধারে মানুষের যে প্রতীক্ষা ছিল, তা দেবের এক ঝলক হাসিতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে পরিণত হয়। হুডখোলা গাড়ি থেকে সামনে ঝুঁকে মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সেই চিরচেনা ভঙ্গি মুহূর্তে মিলিয়ে দিল অভিনেতা আর ভক্তের দূরত্ব। পুলিশের ব্যারিকেড আর অগণিত মোবাইল ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ভিড়ে মিছিল যতবার থমকেছে, ততবারই সুপারস্টারকে ছুঁয়ে দেখার উন্মাদনা বেড়েছে দ্বিগুণ। এই সংযোগের রসায়নই যেন প্রচারের শেষ লগ্নকে এক আলাদা মাত্রা দিয়ে গেল।
বরানগরের সরু গলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত ছবিটা ছিল আরও বর্ণময়। ষষ্ঠীতলা থেকে বনহুগলি মোড় পর্যন্ত জনজোয়ার কেবল রাস্তাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, আছড়ে পড়েছিল বাড়ির ছাদ আর বারান্দাতেও। উপর থেকে ঝরে পড়া ফুলের পাপড়ি আর নিচ থেকে আসা অটোগ্রাফের আবদারে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীকে।
রাজপথের এই ‘ফুল অন শো’ আসলে বুঝিয়ে দিল যে শেষ রবিবারের এই লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূল। এদিনের মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ে মিছিলের গতি বারবার স্লথ হলেও মানুষের হৃদস্পন্দনের গতি ছিল তুঙ্গে, যা এক রাজনৈতিক কর্মসূচীকে সামাজিক উৎসবে রূপান্তরিত করেছিল।
অন্যদিকে বারাকপুরের ছবিটা ছিল একটু ভিন্ন ঘরানার স্নিগ্ধ অথচ শক্তিশালী। পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সমর্থনে লালকুঠির রাস্তায় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলির পা রাখা মাত্রই ভিড়ের রঙ বদলে যায়। এখানে নারী সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রিয় অভিনেত্রীকে চোখের সামনে দেখার আকুলতা মিছিলে এক অন্য আবেগ যোগ করেছিল। লালকুঠি থেকে মাধব নিবাস পর্যন্ত রুটটি যেন এক মানবসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।
গাড়ি থামিয়ে মানুষের আবদার মেটানো এবং হাত নেড়ে সংযোগ বজায় রাখার এই মুহূর্তগুলোই প্রচারের অন্তিম লগ্নে শাসক শিবিরের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। দিনশেষে এই তিন রুট কেবল পদযাত্রার সাক্ষী থাকল না, বরং দেখল কীভাবে সেলিব্রিটি পাওয়ার আর জনতার উচ্ছ্বাস মিলেমিশে নির্বাচনের শেষ দফার আগে এক জোরালো বাতাবরণ তৈরি করে দিল।












