trade bazooka: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রয়োগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের!
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘trade bazooka’ প্রয়োগ!গ্রিনল্যান্ড দখলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধীতা করায় ইউরোপের আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর প্রেক্ষিতে আমেরিকার বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগী হল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর সদস্য দেশগুলো।
রবিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে ওই দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ‘ট্রেড বাজুকা’ বা ‘প্রতিশোধমূলক শুল্ক’ প্রয়োগের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।
কী এই ‘trade bazooka’
‘ট্রেড বাজুকা’ বা প্রতিশোধমূলক শুল্ক ইউরোপীয় ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে থাকা একটি বন্দোবস্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়, এ রকম এক বা একাধিক দেশ অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করলে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে এই অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে ইইউ’র সদস্য দেশগুলো। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশ বা দেশগুলোর ওপর পাল্টা বা প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের পথে হাঁটতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর আগে কখনও এই অস্ত্র প্রয়োগ করেনি তারা।
রবিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রয়োগ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি আমাদের এই বাজুকা ব্যবহার করতে বাধ্য করছে। এই প্রথমবারের মত ইইউ ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রয়োগ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো যদি সত্যিই ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রয়োগ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ তো হবেই, অন্য বিধিনিষেধও জারি হতে পারে। যেমন- আমেরিকায় পণ্য রফতানিতে রাশ টানা হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে কোনও লাভজনক চুক্তিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ নাও পেতে পারে মার্কিন সংস্থাগুলো।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে ব্রাসেলসের (বেলজিয়ামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দফতর) বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি সমঝোতা হয়েছিল ২০২৫ সালে। তাতে বলা হয়েছিল, মার্কিন পণ্যের জন্য বাজার উন্মুক্ত করে দেবে ইউরোপ। ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশে মার্কিন পণ্যের ওপর কোনও শুল্কই নেওয়া হবে না। পরিবর্তে ইউরোপের পণ্যের ওপরেও ট্রাম্প শুল্ক সীমিত রাখবেন। ১৫ শতাংশের বেশি শুল্ক নিতে পারবেন না।
ইউরোপের যে আটটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছন ট্রাম্প, সেগুলো হলো- যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, জার্মানি, ফিনল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস। এই সমস্ত দেশ থেকে যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সেগুলোর ওপর ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক কার্যকর হবে। প্রয়োজনে আগামী দিনে শুল্কের পরিমাণ বেড়ে হতে পারে ২৫ শতাংশ। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই অতিরিক্ত শুল্ক বহাল থাকবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইডেন-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতা যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।












