WBBSE Madhyamik Result 2026: মাধ্যমিক ২০২৬ এর ফলাফল প্রকাশ: সাফল্যের শিখরে রায়গঞ্জের অভিরূপ, পাশের হারে সেরা কালিম্পং
WBBSE Madhyamik Result 2026-দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক ৮৪ দিনের মাথায় শুক্রবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করেন। এবারের পরীক্ষায় সাফল্যের হার এবং মেধা তালিকার বিন্যাস নজর কেড়েছে শিক্ষা মহলের। পর্ষদ সভাপতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ। মেধা তালিকায় ব্যাপক রদবদল ঘটিয়ে এবারে প্রথম দশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ১৩১ জন পরীক্ষার্থী। প্রথম স্থানাধিকারী ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ৯৯.৭১ শতাংশ এবং দশম স্থানে থাকা পরীক্ষার্থীরা পেয়েছে ৯৮.২১ শতাংশ নম্বর (WBBSE Madhyamik Result 2026)।
জেলাভিত্তিক সাফল্যের নিরিখে এবারে সবাইকে চমকে দিয়ে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে পাহাড়ের জেলা কালিম্পং। গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙে কালিম্পং পাশের হারে প্রথম স্থান দখল করেছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর এবং তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে কলকাতা। মেধা তালিকার শীর্ষে এবার উত্তরবঙ্গের দাপট দেখা গিয়েছে। ৯৯.৭১ শতাংশ অর্থাৎ ৬৯৮ নম্বর পেয়ে রাজ্য সেরা হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ সারদা বিদ্যামন্দির স্কুলের ছাত্র অভিরূপ ভদ্র। ঠিক দুই নম্বরের ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে বীরভূমের সরোজিনী দেবী সরস্বতী শিশু বিদ্যামন্দিরের ছাত্র প্রিয়তোষ মুখোপাধ্যায়। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৬।
তৃতীয় স্থানে এ বছর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গিয়েছে। ৬৯৫ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে তৃতীয় হয়েছে তিন জন পরীক্ষার্থী। এদের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের সৌর জানা, পূর্ব মেদিনীপুরের রামকৃষ্ণ শিক্ষামন্দিরের অঙ্কনকুমার জানা এবং বাঁকুড়া ক্রিশ্চিয়ান কলেজিয়েট স্কুলের মৈনাক মণ্ডল। পর্ষদ জানিয়েছিল, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই পরীক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল জানতে পারবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো www.wbbsedata.com, www.wbbse.wb.gov.in এবং www.indiaresults.com-এর মতো পোর্টালগুলি।
এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার কিছু উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান পর্ষদের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালে মোট ৯ লক্ষ ৭১ হাজার ৬২৫ জন পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছিলেন, যার মধ্যে পরীক্ষায় বসেন ৯ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন। বরাবরের মতো এবারও ছাত্রীদের অংশগ্রহণের হার ছাত্রদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। রাজ্যজুড়ে মোট ২৬৮২টি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রায় ৫২ হাজার ৩৮২ জন শিক্ষক নিরলস পরিশ্রম করে খাতা দেখার কাজ শেষ করেছেন। পর্ষদ সভাপতির মতে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ভুলভাবে ফলাফল প্রকাশ করা পর্ষদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।












