All Bengal Imam Muezzin Association Meeting 25 April:সংবিধান ও অধিকার রক্ষায় পলাশীতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিশাল আলোচনা সভা
West Bengal Election 2026 Voter List Controversy: অধিকার হরণের চক্রান্ত রুখে দেওয়ার অঙ্গীকার: পলাশীতে সংবিধান বাঁচানোর ডাক

All Bengal Imam Muezzin Association Meeting 25 April: বাংলার ইতিহাসের বাঁক বদলের সাক্ষী পলাশীর পবিত্র মাটি আজ আবার এক নতুন সংগ্রামের সাক্ষী হলো। ১৭৫৭ সালে যে মাটিতে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, ২০২৬-এর উত্তাল নির্বাচনে সেই মাটিতেই রচিত হলো নাগরিক অধিকার রক্ষার এক নয়া অধ্যায়। ২৩শে এপ্রিল প্রথম দফার ভোট শেষ হওয়ার পর, আগামী ২৯শে এপ্রিলের চূড়ান্ত বা আখেরী লড়াইয়ের আগে মিরাবাজার পলাশীতে অনুষ্ঠিত হলো এক ঐতিহাসিক আলোচনা সভা। ‘অল বেঙ্গল ইমাম মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশন’-এর নদিয়া জেলা কমিটির এই ডাক কেবল সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং তা এক বিশাল গণজাগরণে রূপ নিল।
SIR-এর আড়ালে নাগরিকত্ব হরণের গভীর চক্রান্ত: এক অশুভ শক্তির নীল নকশা
বর্তমান সময়ের সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোটার তালিকায় নাম বাতিলের বিষয়টি। সভার মূল মঞ্চ থেকে বক্তারা অত্যন্ত তীক্ষ্ম ভাষায় অভিযোগ তোলেন যে, এক অশুভ সাম্প্রদায়িক পরাশক্তি সুকৌশলে বাংলার মানুষের নাগরিক পরিচয় মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে মেতেছে। Special Intensive Revision (SIR)-এর নামে এক অন্ধকার খেলা চলছে বলে দাবি করেন সংগঠনের নেতৃত্ব। তারা তথ্য তুলে ধরেন যে, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ডিলিট করা হয়েছে। এই আগ্রাসী চক্রান্তের শিকার হয়েছেন মূলত মুসলিম, আদিবাসী এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ (All Bengal Imam Muezzin Association Meeting 25 April)। একে কেবল কারিগরি ভুল হিসেবে দেখতে নারাজ বিশ্লেষকরা; বরং একে বাংলার হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং গণতান্ত্রিক ভিতকে ভেঙে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিনামূল্যে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা: বিপন্ন মানুষের পাশে অল বেঙ্গল ইমাম মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশন
রাজ্য সম্পাদক মাওলানা নিজামুদ্দিন বিশ্বাস এবং নদিয়া জেলা চেয়ারম্যান হাজী লুৎফর রহমান সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন অথচ বজ্রকঠিন বার্তা প্রদান করেন। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, “আমাদের পিঠ আজ দেওয়ালে ঠেকে গেছে, আর পিছু হটার কোনো পথ নেই।” যখন এক অশুভ শক্তি আইনি মারপ্যাঁচে সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রহীন করার ভয় দেখাচ্ছে, তখন সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে এক বিশেষ আইনি বর্মের। যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবে ‘অল বেঙ্গল ইমাম মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশন’। আইনি পথে লড়াই করে নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার এই প্রতিশ্রুতি সভায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জুগিয়েছে।
২৯শে এপ্রিলের অন্তিম পরীক্ষা: সংবিধান বাঁচাতে চাই ইস্পাতকঠিন ঐক্য
আগামী ২৯শে এপ্রিল কেবল একটি ভোটের দিন নয়, বরং বাংলার মানুষের কাছে এটি অস্তিত্ব রক্ষার এক অগ্নিপরীক্ষা। কালীগঞ্জের প্রার্থী আলিফা আহমেদ, মাওলানা আব্দুল আজিজ, মওলানা কাইমুদ্দিন, হাসিরুল ইসলাম এবং হাফেজ সাদ্দাম হোসেনের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এদিনের সভা থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চূড়ান্ত আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা সাফ জানিয়ে দেন, যারা দেশের পবিত্র সংবিধানকে পদদলিত করতে চায় এবং বিভাজনের বিষ ছড়িয়ে ক্ষমতা দখল করতে চায়, তাদের বাংলার মাটি থেকে বিতাড়িত করার সময় এসে গেছে।
পলাশীর এই ঐতিহাসিক প্রান্তর থেকে আজ যে নতুন শপথ উচ্চারিত হয়েছে, তা হলো—বাংলার অখণ্ডতা ও সম্প্রীতি রক্ষা করতে প্রতিটি নাগরিককে অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে। চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে ন্যায়ের জয় সুনিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। বাংলার গণতন্ত্রের এই অন্তিম লড়াইয়ে ঐক্যই হোক আমাদের প্রধান হাতিয়ার।












