Importance of Dhu al-Qi’dah 2026: জিলকদ মাসের অজানা মহিমা: কেন এটি শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি নিষিদ্ধ মাস? জানুন এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব

ইসলাম - প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১২:২০

জিলকদ মাসের আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্ব: যুদ্ধের অভিশাপ থেকে মুক্তির মাস ও হজের পূর্বপ্রস্তুতি (Dhu al-Qi'dah significance in Islam: A month of spiritual peace and preparation for the holy pilgrimage)

Importance of Dhu al-Qi’dah 2026: জিলকদ মাসের অজানা মহিমা: কেন এটি শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি নিষিদ্ধ মাস? জানুন এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব
ইসলামের ইতিহাসে জিলকদ মাসের গুরুত্ব এবং প্রাচীন মক্কা ও মদিনার আধ্যাত্মিক আবহ।

Importance of Dhu al-Qi’dah 2026– ইসলামী বর্ষপঞ্জি বা হিজরি ক্যালেন্ডারের একাদশতম মাস হলো জিলকদ (Dhu al-Qi’dah)। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত চারটি সম্মানিত মাস বা ‘আশহুরে হুরুম’-এর অন্তর্ভুক্ত এই মাস। মুসলিম উম্মাহর কাছে এই মাসটি কেবল একটি সময় নয়, বরং এটি আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এবং পবিত্র হজের প্রস্তুতির একটি বিশেষ সন্ধিক্ষণ।

​ইসলামী ইতিহাসে এই মাসের মর্যাদা অত্যন্ত সুগভীর। হাদীস ও ইতিহাসের পাতায় জিলকদ মাসের গুরুত্ব (Significance of Hijri months) বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে, কারণ এটি যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ এবং ইবাদতের জন্য সংরক্ষিত একটি সময়। মূলত জিলহজ মাসের মহান সফরের আগে নিজেকে মানসিকভাবে তৈরি করার জন্যই আল্লাহ তাআলা এই মাসটিকে বিশেষ বরকত দিয়ে মহিমান্বিত করেছেন।

জিলকদ মাসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট

জিলকদ শব্দটি মূলত ‘বসা’ বা ‘থামা’ অর্থ থেকে এসেছে। প্রাচীন আরবে এই মাস থেকে যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ রাখা হতো যেন হাজীরা নির্বিঘ্নে হজের সফর শুরু করতে পারেন। ইসলামে এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করে একে শান্তির মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে (Importance of Dhu al-Qi’dah 2026)।

জিলকদ মাসের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও ঘটনাবলি

জিলকদ মাসের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও ঘটনাবলি
ইসলামের ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনকারী বেশ কিছু বড় ঘটনা এই মাসে সংঘটিত হয়েছে। নিচে সেগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

ঐতিহাসিক হুদাইবিয়ার সন্ধি (১ জিলকদ)

৬ হিজরির ১ জিলকদ মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে মুসলমানদের ঐতিহাসিক হুদাইবিয়ার সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। বাহ্যিকভাবে এটি মুসলমানদের জন্য অসম্মানজনক মনে হলেও, পরবর্তীতে এটিই মক্কা বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে।

হজ ফরজ হওয়ার বিধান (৮ জিলকদ)

মুসলমানদের জন্য ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ ‘হজ’ ফরজ হওয়ার ঐশ্বরিক বিধান এই মাসের ৮ তারিখে নাজিল হয়েছিল বলে অনেক ইতিহাসবিদ মত প্রকাশ করেছেন।

খন্দক বা আহজাবের যুদ্ধ (৫ হিজরি)

ইসলামের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ‘খন্দকের যুদ্ধ’ এই মাসেই সংঘটিত হয়। যেখানে সাহাবীরা মদিনার চারপাশে পরিখা খনন করে শত্রুবাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন।

বায়াতুর রিদওয়ান (৬ হিজরি)

হুদাইবিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে সাহাবীগণ একটি বৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে মহানবী (সা.)-এর হাতে শাহাদাতের যে শপথ নিয়েছিলেন, তাকেই বলা হয় বায়াতুর রিদওয়ান। এটি জিলকদ মাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

ওমরাতুল কাজা পালন (৭ হিজরি)

হুদাইবিয়ার সন্ধির শর্তানুযায়ী মহানবী (সা.) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে ৭ হিজরির জিলকদ মাসে প্রথম উমরাহ পালন করেন, যা ইতিহাসে ‘উমরাতুল কাজা’ নামে পরিচিত।

পৃথিবী সৃষ্টি ও নবীদের জন্ম (২৫ জিলকদ)

ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ২৫ জিলকদ হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। এছাড়া প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এই দিনেই কাবা শরিফের নিচ থেকে পৃথিবী সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

জিলকদ মাসের ফজিলত ও মর্যাদা

সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ—এই চারটি মাস সবচেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ। এই মাসগুলোতে ইবাদতের সওয়াব যেমন বেশি, তেমনি কোনো পাপ কাজের শাস্তিও গুরুতর।

এই মাসের করণীয় ও আমল

জিলকদ মাসে নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক ইবাদত না থাকলেও আত্মশুদ্ধির জন্য নিচের কাজগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ:

ঝগড়া ও বিবাদ পরিহার করা

পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারার ২১৭ নম্বর আয়াতে এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই ব্যক্তিজীবনেও যেকোনো প্রকার বিবাদ এড়িয়ে চলা মুমিনের কর্তব্য।

আইয়ামে বিজের রোজা পালন

প্রতিটি হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা সুন্নাত। জিলকদ মাসেও এই রোজাগুলো রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

হজের মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ

যেহেতু জিলকদ মাসের পরেই হজের মাস (জিলহজ) শুরু হয়, তাই এই সময়ে হজের মাসআলা-মাসায়েল শিক্ষা করা এবং ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করা উত্তম। জিলকদ মাস হলো শান্তি ও প্রস্তুতির মাস। ইসলামের ঐতিহাসিক বিজয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলো এই মাসকে করেছে মহিমান্বিত। তাই একজন সচেতন মুমিন হিসেবে আমাদের উচিত এই মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং বেশি বেশি নফল ইবাদতে মশগুল থাকা। তথ্য: উইকিপিডিয়া

Scroll to Top