Iran School Reconstruction 2026: ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠছে ইরান: ৭৭৫টি বিধ্বস্ত স্কুল পুনর্গঠন সম্পন্ন

মুসলিম বিশ্ব - প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১০:৩০

Alireza Kazemi Iran education report: মৃত্যুপুরী থেকে পুনর্জন্ম: ৭৭৫টি স্কুল মেরামতের নেপথ্যে এক অবিশ্বাস্য লড়াই

Iran School Reconstruction 2026: ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠছে ইরান: ৭৭৫টি বিধ্বস্ত স্কুল পুনর্গঠন সম্পন্ন
ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন রূপে সেজে উঠছে ইরানের একটি স্কুল। ১,৩০০টি ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের মধ্যে ৭৭৫টির মেরামত কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। (ছবি: সংগৃহীত)

Iran School Reconstruction 2026– যুদ্ধের দামামা আর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যেখানে থমকে গিয়েছিল শৈশব, সেখানে আজ আবার শোনা যাচ্ছে শিশুদের কলকাকলি। মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ক্ষতবিক্ষত ইরানের শিক্ষাঙ্গনগুলো ফিরে পেতে শুরু করেছে তাদের হারানো প্রাণ- (Iran missile attack impact)। ইরানের শিক্ষামন্ত্রী আলিরেজা কাজেমি এক আবেগঘন বার্তায় জানিয়েছেন, দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ১,৩০০টি স্কুলের মধ্যে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ৭৭৫টি স্কুল এরই মধ্যে মেরামত করে পুনরায় পাঠদানের উপযোগী করা হয়েছে। ধ্বংসের ছাই থেকে শিক্ষার আলো জ্বালানোর এই অদম্য লড়াই বিশ্বজুড়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে (Iran School Reconstruction 2026)।

​রক্তক্ষয়ী ক্ষত ও ধ্বংসলীলার করুণ চিত্র

​(Iran state news IRNA updates)– রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-এর সূত্রে জানা যায়, এই বর্বরোচিত হামলায় তেহরান, কেরমানশাহ, ইসফাহান এবং হরমোজগান প্রদেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মন্ত্রী আলিরেজা কাজেমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান যে, প্রায় ২০টি স্কুল পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তবে বিশেষ করে মিনাবের শাজারেহ তাইয়েবেহ বালিকা বিদ্যালয়ের ( Minab school tragedy Iran ) সেই বীভৎস ক্ষেপণাস্ত্র হামলার স্মৃতি আজও ইরানবাসীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। ওই একটি স্কুলেই প্রাণ হারিয়েছিল ১৭০ জন নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, যাদের বেশিরভাগই ছিল কোমলমতি ছাত্রী। তাদের স্মরণে প্রতিটি স্কুলে আজ বয়ে যাচ্ছে শোকের আবহ, কিন্তু সেই শোককেই শক্তিতে রূপান্তর করেছে দেশটি। তবে আমরা থেমে নেই।

​অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও শিক্ষার জয়যাত্রা

​সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যুদ্ধের ভয়াবহতাও ইরানি শিক্ষার্থীদের কলম থামাতে পারেনি। যখন মাথার ওপর বোমারু বিমানের গর্জন শোনা যাচ্ছিল, তখনও থেমে থাকেনি পাঠদান। সরাসরি শ্রেণিকক্ষে কিংবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে চলেছে শিক্ষা কার্যক্রম (Online classes in war zones)। এমনকি টেলিভিশন স্কুলের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে জ্ঞানের আলো। শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, যেসব স্কুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই সেগুলোর মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে।

​আগামীর স্বপ্ন ও মানসিক পুনর্গঠন

​কেবল দালানকোঠা মেরামত নয়, শিক্ষার্থীদের মনের গভীর ক্ষত সারাতেও ইরান সরকার নিয়েছে অনন্য উদ্যোগ। যুদ্ধের ট্রমা কাটিয়ে উঠতে ছোট ছোট শিশুদের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে (Student counseling programs Iran)। ধ্বংস হওয়া স্কুলগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে—বোমা আর বারুদ দিয়ে একটি জাতির চেতনাকে স্তব্ধ করা যায় না। প্রতিটি মেরামত হওয়া স্কুল আজ হয়ে উঠেছে একেকটি প্রতিরোধের দুর্গ, যা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে এক বিধ্বস্ত প্রজন্মকে। তথ্য: সিজিটিএন

Scroll to Top