Koustav Bagchi in Barrackpore 4 May: ৩৮ মাসের ‘নেড়া’ পণের অবসান: ব্যারাকপুরে রাজকে হারিয়ে চুলে ফিরছেন কৌস্তভ বাগচি!
Koustav Bagchi in Barrackpore 4 May- রাজনীতির ময়দানে মাথার চুল বিসর্জন দেওয়াটা অনেকের কাছেই ছিল নিছক ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’। কিন্তু সেই নেড়া মাথার জেদই যে শেষমেশ জয়ের হাসি হাসাবে, তা বোধহয় সমালোচকরা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি। দীর্ঘ ৩৮ মাস পর ব্যারাকপুরের তপ্ত রাজনৈতিক পিচে যখন তৃণমূলের তারকা প্রার্থী রাজ চক্রবর্তীকে হারিয়ে গেরুয়া আবির মাখলেন কৌস্তভ বাগচি, তখন তাঁর চওড়া হাসিই বলে দিচ্ছিল— দেওয়াল লিখন আগেই পড়া হয়ে গিয়েছিল। জয়ের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে কৌস্তভ সটান ঘোষণা করে দিলেন, ‘এ বার মাথায় আবার চুল রাখব!’
২০২৩ সালের সেই ৪ঠা মার্চ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে উৎখাত করার শপথ নিয়ে মাথা মুড়িয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের এই লড়াকু আইনজীবী। তখন তিনি ছিলেন কংগ্রেসের ‘পোস্টার বয়’, পরে অবশ্য নাম লেখান বিজেপিতে। বিগত তিন বছরে এই নেড়া মাথাই হয়ে উঠেছিল তাঁর প্রতিবাদের সিগনেচার স্টাইল। ব্যারাকপুর কেন্দ্রে যখন রাজ চক্রবর্তীর চেয়ে প্রায় ১৪ হাজার ভোটে এগিয়ে গেলেন তিনি, তখনই কৌস্তভ-পত্নী প্রীতি খোলসা করলেন এক মজার তথ্য। স্বামীর এই গ্র্যান্ড জয়ের জন্য তিনি নাকি ইতিমধ্যেই কিনে ফেলেছেন এক মহার্ঘ উপহার— একদম নামী ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু! অর্থাৎ, চুলে এবার শুধু চিরুনিই পড়বে না, পড়বে সুগন্ধি ফেনার ছোঁয়াও (Koustav Bagchi in Barrackpore 4 May)।
কৌস্তভের এই জেদ যেন নব্বইয়ের দশকের সেই রাজ নারায়ণের কথা মনে করিয়ে দেয়। যিনি ইন্দিরা গান্ধীকে হারিয়ে জেল থেকে বেরিয়ে গঙ্গার ঘাটে দাড়ি কামিয়েছিলেন। ব্যারাকপুরের মানুষও এবার সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখল। গত কয়েক বছরে মার খাওয়া থেকে শুরু করে পুলিশের টেনেহিঁচড়ে গ্রেফতার— সব সহ্য করেও লড়াইটা ছাড়েননি এই তরুণ তুর্কি। হাইকোর্টের নির্দেশে বাড়িতে পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে দিন কাটালেও মানুষের সমর্থন যে তাঁর পকেটেই ছিল, তা সোমবারের ফলাফল স্পষ্ট করে দিল। ব্যারাকপুরের নয়া বিধায়ক এখন জয়ের আনন্দে আত্মহারা। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহর নেতৃত্বের এই জয়কে উৎসর্গ করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, লড়াইটা ছিল সম্মানের। তাই জয় আসতেই সেই পুরোনো শপথ থেকে মুক্তি।
ব্যারাকপুরবাসী এবার একজন বিধায়ককে পাচ্ছেন ঠিকই, তবে দীর্ঘ সময় পর সেই বিধায়ককে দেখা যাবে একদম চেনা ছন্দে, থুড়ি, চেনা চুলে! তৃণমূলের পরাজয়ের দিনে কৌস্তভের মাথায় চুল ফেরার এই খবর এখন রাজনীতির অলিন্দে বেশ রসালো আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে।












