Sheikh Hasina: ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় অনুতপ্ত

ভারত - প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, দুপুর ২:০৭
Sheikh Hasina: ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় অনুতপ্ত

জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-মৃত্যুর যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমি (Sheikh Hasina) অনুতপ্ত। তবে রুপান্তরের নামে bangladesh-এ যেটা চলছে  তা হল ছদ্মবেশী স্বৈরাচার। সম্প্রতি প্রিন্ট সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান শেখ হাসিনা।

Sheikh Hasina বলেন, একটি স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনও বিকল্প নেই। এই নির্বাচনে আওয়ামী লিগকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেন।  বিএনপি বা জামায়াতের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ও সহিংসতার আশ্রয় নিয়েও মুখ খোলেন।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের দিকে ফিরে তাকিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই সহিংসতায়  যে প্রাণগুলো হারিয়েছে সে জন্য তিনি অনুতপ্ত। বলা বাহুল্য, কোটাবিরোধী আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রুপ নেয়। এই সহিংসতায় ১৪০০ জনের প্রাণহানী ঘটে।

শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে তার দলের কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য ইউনূস প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দলটিকে নিষিদ্ধ করার কারণে কোটি কোটি বাংলাদেশি কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে স্বাধীন, সুষ্ঠু বা বৈধ বলা যায় না। ভোটারদের অবশ্যই তাদের পছন্দের দলকে ভোট দেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে। তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার জানে, যদি আমাদের এই নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয় তাহলে আমরা বিপুল জনসমর্থন পাবো। সে কারণেই আমাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না- ইউনূস নিজেই বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে একটি ভোটও কখনো পাননি। বরং নিজের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে দেশের আইনকাঠামো নতুন করে সাজিয়েছেন।

শেখ হাসিনা এক পর্যায়ে বলেন, তার সরকারের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন চলছিল তখন তিনি বুঝতেই পারেননি চরমপন্থী উপাদানগুলো আন্দোলন দখল করে নিয়েছে। আমরা সে সময়কার ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রফেসর ইউনূস ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করে দেন।

এই সিদ্ধান্তই হচ্ছে  মূলত আন্দোলনের পেছনের উদ্দেশ্য। এখানে তিনি বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হাসিনা অবিলম্বে সাংবিধানিক শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সব দলের অংশগ্রহণে স্বাধীন ও সুষ্ঠু  নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। যাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আর না ঘটে। তার মতে, আমরা যে সহিংসতার সাক্ষী হচ্ছি তা হলো নির্বাচিত নয়, এমন প্রশাসনের সরাসরি ফসল। যার কোনো জনপ্রিয় ম্যান্ডেট নেই।

সংস্কার আনার বদলে অন্তর্বর্তী প্রশাসন চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে ক্ষমতাসীন অবস্থানে উন্নীত করেছে। আজকের বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার কোনো ছায়াই নেই।

Asaduddin Owaisi: মোদির ‘বোন’ হাসিনাকে বাংলাদেশে পাঠান 

হাসিনা বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতা, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিকমূল্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ। জামায়াত ইসলামী ও অন্যান্য চরমপন্থী গোষ্ঠীর পুনর্বাসন আমাদের দেশের মূল কাঠামোর জন্য হুমকি।

প্রসঙ্গত, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন দমনে তার সরকারের ভূমিকার কারণে এই সাজা।

Scroll to Top