Bhabanipur Assembly Election 2026: ‘ভবানীপুরে মহাযুদ্ধ’ মমতার গড়ে এবার শুভেন্দুর মরণপণ লড়াই, শেষ হাসি হাসবে কে?
Mamata vs Suvendu Bhabanipur 2026: নন্দীগ্রামের বদলা কি এবার খাসতালুকে? ভবানীপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

Bhabanipur Assembly Election 2026-পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার পর থেকেই সবার নজর এখন কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের দিকে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন— বাংলার মানুষ কি শেষ পর্যন্ত তাঁর ‘ঘরের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বেছে নেবে, নাকি ঘাসফুল শিবির ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লেখানো শুভেন্দু অধিকারীর ওপর আস্থা রাখবে? রাজনীতির কারবারিরা এই লড়াইকে নিছক ভোটযুদ্ধ বলতে নারাজ; তাঁদের মতে এটি কার্যত রাজনীতির মাঠের ‘ক্লাসিক ডার্বি’। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ধাপে এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।
নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর: ফিরে দেখা ইতিহাস ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পুরোনো কেন্দ্র ছেড়ে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেই লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে বিশাল জয় পেলেও ব্যক্তিগতভাবে নন্দীগ্রামে হেরে গিয়েছিলেন মমতা। পরবর্তীতে নিজের খাসতালুক ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখেন। তবে বিগত কয়েক বছরে ভবানীপুরের গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। এবার নিজের গড়ে দাঁড়িয়েই শুভেন্দু অধিকারীর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মমতা। শুভেন্দু এই কেন্দ্রে জয়ের ব্যাপারে এতটাই আত্মবিশ্বাসী যে তিনি ভবানীপুরের ভোটারদের জন্য বিজেপির ইশতেহারের বাইরেও পৃথক ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনেও ভবানীপুরের দুটি পৌরসভা ওয়ার্ডে বিজেপি লিড নিয়ে চমক দেখিয়েছিল, যা তৃণমূল শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
ভবানীপুরের জনবিন্যাস ও ভোটের সমীকরণ
Bhabanipur Assembly Election 2026- ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটের অংক বেশ জটিল। এখানে প্রায় ২৪ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছেন, যারা ঐতিহ্যগতভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। বাকি ৭৬ শতাংশ ভোটারের মধ্যে রয়েছে শিখ, খ্রিষ্টান এবং বিশাল সংখ্যক হিন্দু ভোট। হিন্দু ভোটারদের মধ্যে আবার মাড়োয়ারি ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের আধিক্য বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবাঙালি ভোটারদের ওপর বিজেপির প্রভাব অনেকটাই বেশি। ফলে দেশ, জাতি কিংবা ধর্মের নিরিখে যদি ভবানীপুরের ভোট ভাগ করা হয়, তবে কোনো একটি দলকে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই পক্ষই এখন ভোটারদের শেষ মুহূর্তের মন জয়ে মরিয়া।
মোদির ঝালমুড়ি বনাম মমতার নাটক কটাক্ষ: তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক
নির্বাচনী প্রচারের শেষলগ্নে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘ঝালমুড়ি বিতর্ক’। ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচার সেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকাই একটি ঝালমুড়ির দোকানে ঢোকেন। তিনি ঝালমুড়ি খান এবং নিজ পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে দোকানদারকে মূল্য পরিশোধ করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই মেলামেশার দৃশ্য ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়। তবে এই ঘটনাকে নিছক ‘নাটক‘ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমের মুরারইয়ের এক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, পুরো বিষয়টিই ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং ক্যামেরার কারসাজি। মমতার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাকর্মীরাই সেই ঝালমুড়ি বানিয়েছিলেন এবং মোদির পকেটে সাধারণত টাকা থাকে না, অথচ প্রচারের স্বার্থে তিনি নাটক করছেন।
কামারহাটিতে মদন মিত্রের পাল্টা ঝালমুড়ি উৎসব
প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কামারহাটির তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র এক অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেছেন। অভিনেত্রী শ্রীতমা ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে তিনি রাস্তায় নেমে ঝালমুড়ি খাওয়া এবং খাওয়ানো শুরু করেছেন। মদন মিত্র প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মকাণ্ডকে বিদ্রূপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যতবার রাজ্যে এসে ঝালমুড়ি খেয়ে ‘নাটক’ করবেন, তৃণমূল কর্মীরাও তার পাল্টা হিসেবে মুড়ি উৎসব করবে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেতে খেতে যে সব বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার একটিও কি তিনি গত কয়েক বছরে রক্ষা করেছেন? এই ঝালমুড়ি কেন্দ্রিক চাপানউতোর এখন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী পাড়ায় প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোর্স: উইকিপিডিয়া












