Kurdish Syrians citizenship: কুর্দিদের নাগরিকত্ব ও ভাষার স্বীকৃতি দিল সিরিয়া
কয়েক দশকের বৈষম্য ঘুচিয়ে (Kurdish Syrians citizenship) কুর্দিদের মূলধারায় ফিরিয়ে নিতে বড় পদক্ষেপ নিলেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। শুক্রবার এক বিশেষ অধ্যাদেশে তিনি কুর্দিদের সিরিয়ার ‘অপরিহার্য ও আদি’ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে আরবি ভাষার পাশাপাশি কুর্দি ভাষাকে ‘জাতীয় ভাষা’ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হল এবং এখন থেকে সিরিয়ার স্কুলগুলোতে এই ভাষা পড়ানো যাবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬২ সালে হাসাকা প্রদেশে বিতর্কিত এক আদমশুমারির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ কুর্দির নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এদিন সেই কালো আইন ছিল বাতিল করা হয়েছে। ফলে সিরিয়ায় বসবাসরত সব রাষ্ট্রহীন কুর্দি এখন থেকে সিরিয়ার পূর্ণ নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার ফিরে পাবেন।
এই অধ্যাদেশের প্রধান দিকগুলো হলো, কুর্দি ভাষা এখন থেকে সিরিয়ার সরকারি জাতীয় ভাষা। কুর্দি অধ্যুষিত এলাকার সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে এই ভাষা বাধ্যতামূলক বা ঐচ্ছিক পাঠ্য হিসেবে রাখা হবে।
কুর্দিদের বসন্ত উৎসব ও নববর্ষের (নওরোজ- ২১ মার্চ) দিন সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়ায় জাতিগত বা ভাষাগত বৈষম্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতিগত বিভেদ ছড়ালে দণ্ডবিধির আওতায় কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।
আহমেদ আল-শারার এ ঘোষণাটি এমন একসময়ে এল, যখন উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে কুর্দি যোদ্ধা এবং সিরীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে।
সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত সপ্তাহের লড়াইয়ে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে সিরীয় সেনাবাহিনী আলেপ্পোর নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর দেইর হাফেরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এর আগে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এই এলাকা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
তবে সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি প্রশাসন এই অধ্যাদেশকে স্বাগত জানালেও একে ‘অসম্পূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে। সিরিয়ার মোট দুই কোটি জনসংখ্যার মধ্যে কুর্দিরা সবচেয়ে বড় জাতিগত সংখ্যালঘু। মোট কুর্দি জনসংখ্যা আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লক্ষ (মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ)। এদের মধ্যে ১২ লক্ষের বেশি কুর্দি উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাস করে। বাকিরা দামেস্ক ও আলেপ্পোর বিভিন্ন শহরতলিতে ছড়িয়ে আছে।
এদিকে আহমেদ আল-শারার এমন পদক্ষেপে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তুরস্কের সরকার। তারা মনে করছে, এই স্বীকৃতির ফলে সিরিয়ার কুর্দিরা আরও স্বায়ত্তশাসন দাবি করবে, যা তুরস্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে (Kurdish Syrians citizenship)। তবে প্রেসিডেন্ট আল-শারা তাঁর বক্তব্যে কুর্দিদের ‘সালাহউদ্দিনের বংশধর’ হিসেবে অভিহিত করে ঐক্যবদ্ধ সিরিয়া গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।











