Madrasa: সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে ইতিহাস গড়ল হরিপুর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা

ভারত - প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ১০:২৪
IMG 20260105 WA0047 scaled

হরিপুর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার (madrasa) ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর তিন দিনব্যাপী  সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব পালিত হয়।

১৯৭৫ সালে হরিপুর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুর দিকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু হয়। এমন সময়ও ছিল, যখন বর্ষাকালে শ্রেণিকক্ষে জল ঢুকে পড়ত। ধীরে ধীরে বিভিন্ন শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তির সহযোগিতায় মাদ্রাসার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটে, ভবন নির্মাণ হয় এবং ধারাবাহিক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৫০ বছরে পদার্পণ করে।

এই সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ২০২৫ সাল জুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বস্ত্র বিতরণ, রক্তদান শিবির, প্রাক্তনী মিলন অনুষ্ঠান, ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং সবশেষে ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর তিন দিনব্যাপী বৃহৎ আয়োজন।

তিন দিনের এই উৎসবে ছিল নানা আকর্ষণীয় কর্মসূচি— বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, ইংরেজি বক্তব্য, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, মক পার্লামেন্ট, মনোজ্ঞ নাটক ও শ্রুতি নাটক, শিশুদের কোরিওগ্রাফি এবং শেষ দিনে বিশিষ্ট আলেমদের দ্বারা ইসলামী আলোচনা।

এই সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হালিম মহাশয়।

তিনি বলেন, “আমি আমার সহকর্মীদের নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছি যাতে মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হয়। অনেকেই মাদ্রাসা সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেন, কিন্তু এখানকার পাঠক্রম অন্যান্য হাই স্কুলের মতোই।

দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষাও এখানে সমান গুরুত্বের সঙ্গে প্রদান করা হয়। প্রথম শ্রেণি থেকে কলেজ স্তর পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এটি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজির একটি স্টাডি সেন্টার হিসেবেও স্বীকৃত।”

তিনি আরও জানান, এই (madrasa) মাদ্রাসার বহু প্রাক্তনী আজ বিচারপতি, গবেষক, ডাক্তার, শিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিযুক্ত থেকে প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।

মাদ্রাসার প্রাক্তনী হাসান আল মামুন বলেন, “আমরা প্রাক্তনীরা আমাদের হরিপুর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা নিয়ে গর্বিত। এখানকার শিক্ষক-শিক্ষিকারা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে সদা নিবেদিত।”

অপর প্রাক্তনী অলিউর রহমান জানান, “৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যে বিশাল আয়োজন করা হয়েছে, তার জন্য আমরা প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল হালিম মহাশয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁর তত্ত্বাবধানে এই মাদ্রাসা এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে।”

আরও এক প্রাক্তনী মামুন শেখ বলেন, “এই সফল অনুষ্ঠানের জন্য আমরা প্রধান শিক্ষক, সকল শিক্ষকবৃন্দ এবং গোল্ডেন জুবিলী কোর কমিটির সকল সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

Scroll to Top