Ramadan in New York: টাইমস স্কয়ারে ইফতার ও তারাবিতে মুসল্লিদের ঢল
পবিত্র রমযান উপলক্ষে ঐতিহাসিক টাইমস স্কয়ারে ইফতার ও তারাবির জামাতে অংশ নেন শত শত মুসলমান (Ramadan in New York)। শুক্রবার রাতে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে ব্রডওয়ে ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউ এলাকায় প্রায় দেড় হাজার মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করা হয়।
রমযানের পবিত্রতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে শুক্রবার রাতে ইফতার ও তারাবির আয়োজন করা হয়। সূর্যাস্তের পর ইফতার গ্রহণের পাশাপাশি মুসল্লিরা এশার নামাজের পর তারাবির জামাতে অংশ নেন। ২০২২ সাল থেকে প্রতি বছর এই আয়োজন হয়ে আসছে (Ramadan in New York)।
আয়োজকদের তথ্যমতে, কর্মসূচিতে প্রায় দেড় হাজার ইফতার প্যাকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাষায় কুরআনের ১ হাজার ২০০ কপি বিলি করা হয়। পুরো আয়োজনটি সংগঠিত করেন মুসলিম আমেরিকান কনটেন্ট ক্রিয়েটর ওয়ে লাইফ এসকিউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আয়োজনটি সরাসরি তুলে ধরেন, যা অনলাইন ও সরেজমিনে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, রমযানের রাতের ইবাদত তারাবির জামাতে অংশ নিতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত। আয়োজকের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে দুজন মার্কিন নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করেন। এ খবরে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে বেশ উৎসাহ দেখা যায়।
তবে আয়োজনের মধ্যেই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথাও জানান আয়োজক। তার দাবি, একজন অমুসলিম ব্যক্তি এসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেন এবং ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করেন। আয়োজক ও উপস্থিত কয়েকজন ওই ব্যক্তির আচরণ ভিডিয়ো ধারণের চেষ্টা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই আয়োজনের অন্তর্ভুক্তিমূলক দিকটি তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ব্যবহারকারীরা লিখেছেন, ইফতার বিতরণ সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং পথচারীরাও এতে অংশ নিতে পেরেছেন। এই চিত্র নিউইয়র্কের বহুত্ববাদী চরিত্রের প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটিতে মুসলিমদের এ ধরনের জনসমাগমপূর্ণ আয়োজন নতুন নয়। বর্তমান মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রাক্তন মেয়র এরিক এডামসের সময় টাইমস স্কয়ারে এমন কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া বছরের পর বছর ধরে ওয়াশিংটন স্কয়ারস পার্কসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে রমজানের আয়োজন হয়ে আসছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে পাঁচ লক্ষের বেশি মুসলমান নিয়মিত রমযান পালন করছেন। ইসলামী বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে পবিত্র এই মাসে ইবাদত, দান ও সংযমের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন তারা।












